এদিকে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনার পরও সকাল ১০টা থেকে আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
গভীর রাতে পাঠানো ববি রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের সময় অনভিপ্রেত ঘটনার প্রেক্ষিতে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার স্বার্থে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিধি ২০১৩ এর ১১(১০) ধারা অনুযায়ী উপাচার্যকে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে আগামী ২৮ মার্চ থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষাসহ যাবতীয় একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। একইসঙ্গে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের ২৮ মার্চ বিকাল ৫টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।
নোটিশ ওেয়ার পরেও সকাল থেকে একাডেমিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে ভিসির ‘রাজাকারের বাচ্চা’ উক্তি প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলেও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ও হল ত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভিসির বক্তব্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি টিএসসিতে পাঠদান না করানো, সেমিনার রুমের ভাড়া ৩ হাজার থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করা এবং জাতীয় দিবসগুলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে পালনের দাবি জানিয়েছেন।
তবে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত না মানলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন ভিসি প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল। তিনি বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বলা হলেও এটি তা নয়। স্বার্থান্বেষী একটি মহলের ইন্ধনে আন্দোলনের নামে অরাজকতার সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা বিকাল ৫টার মধ্যে হল ত্যাগের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে নেবে বলে আশা করি। এরপরও কেউ ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বৈকালিক চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদকারীদের ভিসি প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও ভিসির উক্তি প্রত্যাহারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বুধবার থেকে আন্দোলনে নামনে শিক্ষার্থীরা।