মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সকাল সোয়া নয়টার দিকে ক্লাস চলাকালে বরগুনা পৌর শহরের আমতলা পাড় এলাকার ১৬ নম্বর মধ্য বরগুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছে সেখানকার শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষের ছাদের একাংশ ধসে পড়েছে। এসময় ওই শ্রেণি কক্ষে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছিল। ছাদের একাংশ যেখানে ভেঙে পড়ে সেখানে রিফাত নামের এক শিক্ষার্থী বসেছিল। তবে রিফাত ইউনিফর্ম পরে না আসায় তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রিফাত ওই জায়গা থেকে উঠে বাসায় যাওয়ার এক থেকে দেড় মিনিটের ব্যবধানে ছাদ ধসের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা নিপা জানান, দু'বছর আগে তিনি এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। এই দুই বছরে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনটির কোনও সংস্কার করা হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ছবিসহ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও তারা কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভবনটির যে যে স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, সেসব স্থানের পলেস্তারা ফেলে দিতে বলা হয়েছে।’
বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমএম মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখন প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে দেখবো শ্রেণিকক্ষগুলো পাঠদানের উপযোগী আছে কিনা। পাঠদানের উপযোগী থাকলে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে শনিবার (৬ এপ্রিল) বেলা বারোটার দিকে তালতলী উপজেলার ছোটবগী পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রেড বিম ধসে মানসুরা বেগম নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়।