স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ

বরগুনা

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে জাহানারা বেগম নামে এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাতে স্বামী সুলতান হাওলাদার ও তার সহযোগীরা এ কাজ করে বলে জানান ওই গৃহবধূ ।

সুলতানের সহযোগিরা হলো, সোহেল রাঢ়ী, জাহাঙ্গীর, মাইদুল ও সিয়াম। সুলতান বাকেরগঞ্জ উপজেলার শিয়ালঘুনি গ্রামের আদম আলী হাওলাদারের ছেলে এবং উপকূল লঞ্চের স্টাফ।

মেডিক্যালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসারত জাহানারা জানান, সম্প্রতি সুলতান আরেকটি বিয়ে করে। সোমবার রাতে ওই বিয়ে নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সুলতান তার সহযোগীদের মাধ্যমে তাকে ঘর থেকে বের করে দঁড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে সুলতান তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের ছ্যাকা দেয়। এসময় তার চিৎকার শুনে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে মেডিক্যালে ভর্তি করে।

জাহানারা আরও জানান, ১৮ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর একাধিক পরকিয়া প্রেমের সম্পর্কের কারণে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। এরমধ্যে তাদের তিনটি সন্তান জন্ম নেয়। সে আশা করেছিল সন্তানদের কথা ভেবে হয়তো সুলতান ভালো হয়ে যাবে।  কিন্তু তার কোনও পরবর্তন হয়নি। পরে তার বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের ঘটনায় দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলা দায়েরের পর সালিশ বৈঠক করে এ ধরনের কাজ সে আর করবে না বলে সেখানে উপস্থিত বিচারকদের কাছে ওয়াদা করে। এ কারণে ওই মামলা আর চালানো হয়নি। কিছুদিন ভালো থাকার পর সে আবারও পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। দুই মাস আগে ওই নারীকে বিয়ে করে সুলতান। 

এ ব্যাপারে মেহেন্দীগঞ্জ থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহানারাকে উদ্ধার করে স্পিডবোটে করে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।