ফাল্গুনীর বাড়ি ভোলার লালমোহন এলাকার। খুলনা বিএল কলেজ থেকে ইংরেজীতে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করে লালমোহনের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন তিনি।
সুন্দরবন-১০ লঞ্চের সুপারভাইজার হারন-অর রশিদ জানান, রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকাগামী লঞ্চটি কীর্তনখোলা নদীর চরমোনাই এলাকা অতিক্রমকালে পেছনের দিক থেকে এক নারী নদীতে পড়ে যায়। অন্য যাত্রীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে লঞ্চটি দিক পরিবর্তন করে নদীর ওই স্থানে গিয়ে সার্চ লাইট মেরে মাইকিং করে সন্ধান চালায়। কিন্তু তার কোনও অস্তিত্ব না পাওয়ায় মাইকিং করে আশপাশের বাসিন্দাদের খবরটি জানিয়ে লঞ্চটি ফের ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।
নদীতে পড়ে যাওয়া নারীর সঙ্গে থাকা তার মা ও খালাকে ওই স্থানে নেমে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও তারা সেখানে নামতে রাজি হননি। লঞ্চটি অনেক দূরে চলে যাওয়ার পর পুলিশ লঞ্চের মোবাইল ফোনে কল করে জানায় ওই নারীকে উদ্ধার করে পাশের এক বাড়িতে রাখা হয়েছে।
ওই নারীকে নদী থেকে উদ্ধার করা আলাম চৌকিদার জানান, আমিসহ দুই জন নৌকায় কীর্তনখোলা নদীর চরমোনাই পয়েন্টে জাল ফেলে মাছ শিকার করছিলাম। হঠাৎ নদীর মধ্যে একজন মানুষ হাবুডুবু খাচ্ছে দেখতে পাই। কাছে গিয়ে এক নারীকে প্রায় নিস্তেজ অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি। ওই নারী স্বাভাবিক হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে সে (ফাল্গুনী) লঞ্চের পেছনে পা ধোয়ার সময় নদীতে পড়ে যায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানান, ওই নারীকে উদ্ধারের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লঞ্চ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার স্বজনদের জানানো হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।