পায়রা নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছিল পটুয়াখালীর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শীর্ষেন্দু বিশ্বাস। অবশেষে সেই সেতু বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। সেতু বিভাগের সচিব এবং সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক জানান, খুব শিগগিরই এই সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে পটুয়াখালীর কচুয়া-বেতাগি সেতু এলাকা পরিদর্শন কালে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব উপহার। একজন স্কুলছাত্রের চিঠি পেয়ে তিনি সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সেই মোতাবেক নির্দেশনা দিয়েছেন। তখনই আমরা কাজ শুরু করেছি। জমি অধিগ্রহণ শেষে মূল নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’
এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সেতু কর্তৃপক্ষ ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বছর মার্চ মাসে সেতুর স্থান সমীক্ষা ও পরিদর্শন করে সেতু বিভাগের প্রতিনিধি দল।
২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ওই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হবে বলে আশ্বস্থ করে শীর্ষেন্দুকে পাল্টা চিঠি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। চিঠিটি শীর্ষেন্দুর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয় ২৬ সেপ্টেম্বর।
পায়রা নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মির্জাগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে পটুয়াখালী সদরে যাতায়াতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কম লাগবে। এতে লেবুখালী ও পদ্মা সেতুর মাধ্যমে মির্জাগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে ঢাকার সরাসরি ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে।
সেতুর প্রাথমিক ডিজাইন অনুযায়ী সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ১.৬৯০ কিলোমিটার। এর মাঝে ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের নয়টি স্প্যান এবং উভয় প্রান্তে ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি স্প্যান ও ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের ২৩টি স্প্যান থাকবে। সেতুটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪২ কোটি টাকা।
সেতু বিভাগের তথ্য মতে, পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ডিপিপি ২০২০ সালে মার্চে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। ২০২৫ সালের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নকালে প্রকল্প এলাকার জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তা ছাড়া নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণেও নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। ওই এলাকায় নতুন শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠিত হবে।