কৃষি প্রণোদনার মালামাল বিক্রি, সরকারি ২ কর্মীকে শোকজ

ঝালকাঠির নলছিটিতে উপজেলা কৃষি অফিসের গোডাউনে মজুত কৃষি প্রণোদনার মালামাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র রায় ও কর্মচারী মো. ছালাম গাজীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান মিলি। সোমবার (৮ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। এদিকে প্রণোদনার মালামাল বিক্রির ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।  

অভিযোগ উঠেছে, গত ৩ নভেম্বর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কৃষি অফিসের গোডাউনে থাকা কৃষি প্রণোদনার বিপুল পরিমাণ সার ও বীজ, কয়েকটি ড্রাম, চার থেকে পাঁচটি নেট জাল ও পাঁ থেকে ছয় সেট ফিতা পাইপ উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের এক কৃষকের কাছে অবৈধভাবে বিক্রি করেন সংশ্লিষ্ট মো. ছালাম গাজী। এ সময় উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র রায় উপস্থিত ছিলেন।  

স্থানীয়রা জানান, গোডাউন থেকে এসব মালামাল বিক্রির ঘটনা দেখে ফেলেন স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার। পরবর্তীতে তাদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানাজানি হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ওইদিন দুপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান মিলি ওই দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মচারী ছালাম গাজী কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র রায় বলেন, আমি অফিসের পাশে একটি ভবনে ভাড়া থাকি। ওইদিন ভোরে ছালাম গাজী আমাকে গোডাউনের সামনে ডেকে নেন। তবে প্রণোদনার মালামাল ওই কৃষকের কাছে বিক্রি বা প্রদানের ঘটনায় আমি জড়িত নই। 

তিনি আরও বলেন, অফিস প্রধানকে ওইদিনের ঘটনা না জানানোর কারণে আমাকে শোকজ করা হয়েছে। যথা সময়ে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়া হবে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান মিলি বলেন, ওই দু’জনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।