ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে এক নারীকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জখম হয়েছেন আরও তিন নারীসহ চার জন। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের বংকুরা গ্রামের দুলাল বয়াতির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত শুকুরন বেগম (৫০) হারুন তালুকদারের স্ত্রী এবং দুলাল বয়াতির বোন।
ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে লাশ উদ্ধার করে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আহতরা হচ্ছেন মিনারা বেগম, শিল্পী বেগম, আবু হানিফ বয়াতি ও স্কুলছাত্রী মনিকা। তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় আবু হানিফ বয়াতি বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নাসির কাজী, জিয়া হাওলাদারসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ছয় জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহতের ভাতিজা হানিফ বয়াতি বলেন, সৌদি প্রবাসী বারেক বেপারীর জমির ঘাস কেটে নেওয়ার অপবাদে মঙ্গলবার সকালে দুলাল বয়াতি ও দুলালের বোন শুকুরন বেগমের সঙ্গে বারেকের স্ত্রী রিনার বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে রিনা মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে দুলালকে একা পেয়ে জুতাপেটা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ক্ষিপ্ত হয়ে রিনা প্রতিশোধ নিতে বিষয়টি তার জামাতা গৌরনদীর আশোকাঠির উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোডের আশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পার্টনার নাসির কাজীকে জানান।
হানিফ বয়াতি বলেন, বুধবার রাতে নাসির কাজী ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার মজিবুর রহমান ওরফে জিয়া হাওলাদারের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন রামদাসহ দেশীয় ধারাল অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দুলাল বয়াতির বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা দুলালের বোন শুকুরন এবং বাড়িতে থাকা আরও চার জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। এ সময় বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে শুকুরনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন জানান, রাতেই পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুকুরনের লাশ উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।