বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরপদ্মা গ্রামে বান্ধবীর বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আলী হোসেন মীর (২২) উপজেলার চরপদ্মা গ্রামের বাবুল মীরের ছেলে। ঢাকায় টাইলস মিস্ত্রির কাজ করতেন।
আলী হোসেনের বন্ধু এনায়েত হোসেন বলেন, একই গ্রামের সাহেব আলী ঘরামীর বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কিছু দিন আগে ঢাকা থেকে আসে আলী। বৃহস্পতিবার রাতে ওই বাড়িতে আলী বান্ধবীর গায়ে হলুদ ছিল। সে অনুষ্ঠানে আমরা একসঙ্গে যাই। অনুষ্ঠান শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমরা ওই বাড়ি থেকে বের হই। কিছুদূর যাওয়ার পর আলী একা যেতে পারবে জানিয়ে আমাকে ফিরে যেতে বলে।
তিনি বলেন, ওই বাড়িতে ফিরে এসে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আলীর মোবাইলে কল করি। কল ধরে বলে, আমাকে বাঁচা, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। এরপর লাইনটা কেটে যায়।
এনায়েত আরও বলেন, সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আলীর পরিবারকে কল করে জানাই। কিছু লোক নিয়ে এগোতে থাকি। একটি বাড়ির পাশে আলীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তার মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে। উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা বাবুল মীর বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে বন্ধু এনায়েত হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের সাহেব আলী ঘরামীর বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যায় আলী। রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। তবে কী কারণে কেন হত্যা করা হয়েছে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
মুলাদী থানার ওসি তুষার কুমার মণ্ডল বলেন, খবর পেয়ে আজ শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিহতের লাশ উদ্ধার করে স্বজনরা শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে আজ সন্ধ্যায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কারা জড়িত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকেও কোন ধরনের অভিযোগ করা হয়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।