মোখার প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠছে সাগর, নেই বাতাস

ধেয়ে আসা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র প্রভাব উপকূলে এখন পর্যন্ত পড়া শুরু না হলেও ধীরে ধীরে উত্তাল হয়ে উঠছে বঙ্গোপসাগর। জোয়ারের পানিও কিছুটা বেড়েছে। দেশের চার বন্দরেও দেখানো হয়েছে চার নম্বর সতর্কতা সংকেত। তবে উপকূলের আবহাওয়ার কোনও পরিবর্তন হয়নি। বৃষ্টি কিংবা ঝোড়ো হাওয়া নেই। প্রখর খরতাপে পুড়ছে উপকূল। এদিকে, সতর্কতা সংকেত থাকলেও গরম থেকে রক্ষা পেতে বৃহস্পতিবার (১২ মে) দুপুরে কুয়াকাটা সৈকতে গোসলে নেমেছেন হাজারো পর্যটক।

সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে নেচে-গেয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন তারা। সমুদ্রের পানিতে গা ভাসিয়ে ভ্যাপসা গরমে একটু প্রশান্তির পরশও নেন কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা মানুষ।

এদিকে, অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার খাপড়াভাঙ্গা নদীতে নিরাপদ আশ্রয় নিলেও বেশ কিছু ট্রলার এখনও সমুদ্রে মাছ শিকার করছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখলেই ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন মালিকরা।

kuakata4

মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি এবং কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দিদার উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়ীদের দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই গভীর সমুদ্রে থাকা অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার মহিপুর-আলীপুর খাপড়াভাঙ্গা নদীর পোতাশ্রয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও সাগরে যে ট্রলার রয়েছে তা আজ রাতের মধ্যে ফিরে আসবে।

এদিকে, শুক্রবার দুপুরের বুলেটিনে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মোংলা বন্দর থেকে ঘূর্ণিঝড়টি ৯৬৫, চট্টগ্রাম থেকে ১০০৫, কক্সবাজার থেকে ৯৩৫ ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। পাশাপাশি চার নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করে সব মাছ ধরার ট্রলারসমূহকে গভীর সাগরে বিচরণ না করে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

kuakata3

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা সানজিদা আক্তার বলেন, গত দুই দিনের চেয়ে আজ সাগর কিছুটা উত্তাল মনে হচ্ছে। আজ বড় বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে। সমুদ্রে গোসল করেছি, খুব ভালো লেগেছে।

কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলমাস হাওলাদার বলেন, সতর্ক সংকেতের কারণে মনে করছিলাম, আজকে কুয়াকাটায় পর্যটক আসবে না। কিন্তু সৈকত এলাকায় কয়েক হাজার পর্যটক গোসলে নেমেছে। বিক্রিও ভালো।

হাফিজুর রহমান নামে আরেক পর্যটক বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের খবর শুনেও কুয়াকাটায় এসেছি। গণমাধ্যমে দেখলাম ঘূর্ণিঝড়ের গতি কক্সবাজারের টেকনাফ ও মিয়ানমারের দিকে, তাই কুয়াকাটা ঘুরতে এসেছি। বড় বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে, সমুদ্রে গোসল করছি ভালো লেগেছে। সতর্ক আছি তবে আতঙ্কিত না।

কুয়াকাটায় বসবাসকারী ৭০ বছর বয়সী আব্দুস সাত্তার বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কথা শুনলেই ভয় পাই। কারণ এই জীবনে সিডরসহ অনেক দেখেছি।

kuakata2

লালুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বলেন, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা আমার ইউনিয়ন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম তলিয়ে যায়। এসব এলাকার মানুষ রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। স্থায়ী বেড়িবাঁধের দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধনসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছি।

উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির (সিপিপি) সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই মাঠ মহড়াসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার মাধ্যমে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় উপজেলার ১৭৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও মুজিব কিল্লাগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।