রাস্তার কাজে চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদারের গাড়ি নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে সড়ক নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে ঠিকাদারের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ চার জন। শেষ পর্যন্ত চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদারের ছেলেকে মারধর করে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে যান অভিযুক্তরা। ওই মোটরসাইকেলের দাম ১ লাখ টাকা ধরে আরও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদার।

অভিযুক্তরা হলেন- ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোল্লা, বিএনপি কর্মী সাকিব হাওলাদার, সজিব হাওলাদার ও মুবিন মোল্লা। তাদের সবার বাড়ি মাধবপাশা ইউনিয়নে।

এ ঘটনায় বিএনপির ওই নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকালে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার রুস্তম হাওলাদার। এর আগে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাদলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান তারা।

থানায় দেওয়া অভিযোগে রুস্তম হাওলাদার উল্লেখ করেছেন, মাধবপাশা ইউনিয়নের বাইপাস-হাদিবাসকাঠীর ২৬ শত মিটার পিচ ঢালাই সড়কের নির্মাণকাজে সাব ঠিকাদার হিসেবে তিনি নিয়োজিত রয়েছেন। গতকাল শনিবার রাতে বাদলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা সড়কের নির্মাণকাজে বাধা দেন। এ সময় কাজ চালিয়ে যেতে হলে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন তারা।

দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। বিএনপি নেতা মাহবুব মোল্লার নেতৃত্বেই এসব ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তার ছেলেসহ সঙ্গে থাকা অন্যদেরও মারধর করার পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তার ছেলের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে যান অভিযুক্তরা। মোটরসাইকেলটির মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে আজ রুস্তম হাওলাদার বলেন, ‘অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মাহবুব মোল্লা মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, ‘আমি রুস্তমের কাছে টাকা পাই। ওই সড়কের নির্মাণকাজে আমি অংশীদার আছি। পাওনা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় মোটরসাইকেলটি এনে নিজের কাছে রেখেছি। টাকা দিলে ফেরত দেবো।’

পাওনা টাকা আদায়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আইনসম্মত কি না জানতে চাইলে মাহবুব মোল্লা বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র নেতারা বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেবেন। তারা বিষয়টি জানেন।’

এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চাঁদার টাকা না পেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’