এর আগে বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা এলাকায় চীনের অর্থায়নে ও এস আলম গ্রুপের অধীনে কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে না তোলার দাবিতে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর কয়েকটি দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ত্রিমুখী সংঘর্ষে চারজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। এর প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিনুর রশীদকে প্রধান করে জেলার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মনরঞ্জন দাস ও পুলিশ বিভাগের সহকারী সুপারিন্টেনডেন্ট তরিকুল ইসলামের সমন্বয়ে এক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।
বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তদন্ত কমিটির প্রধান এই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, বাঁশখালির সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত, ক্ষতিগ্রস্ত, আন্দোলনে জড়িত ব্যক্তিসহ এলাকাবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপের মাধ্যমে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের পর এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
জেলার ডেপুটি কমিশনার মেসবাহ উদ্দীন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সংঘর্ষের এই ঘটনায় একটি বিশেষ মহলের রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। বিশেষ ওই গোষ্ঠী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে মানুষকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ক্ষেপিয়ে তুলেছে। সংঘর্ষের দিন জনগণের প্রাণ ও সম্পদ রক্ষার্থে গুলি চালানোর ছাড়া পুলিশের আর কোনও উপায় ছিল না।
আরও পড়ুন: ফুটেজে ছিনতাইকারী, পুলিশ বলছে ধরা সম্ভব নয়
প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়ের এই একাংশ জানিয়ে ডেপুটি কমিশনার আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে কেমন পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে কমিটি মনে করে, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করতে গিয়ে বলা হয়েছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে কী কী সুবিধা পাবেন গ্রামবাসী, সেসব বিষয় আলোচনায় সামনে নিয়ে আসতে হবে। তবেই স্থানীয়দের পূর্ণ সম্মতিতে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব হবে।
/এইচকে/আপ-এআর/