আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ২১ মে রাঙামাটি সফর করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। ইউপি নির্বাচন চলার সময় এটিই তার একমাত্র সফর। এখানকার ৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রাঙামাটির ইউপি নির্বাচন চতুর্থ ধাপে গত ২২ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিএনপি বেশিরভাগ ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে না পারায় নির্বাচন পিছিয়ে ষষ্ঠ ধাপে আগামী ৪ জুন নিয়ে যাওয়া হয়। প্রার্থী বাড়লেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি না হওয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই রাঙামাটি সফর করেন। নির্বাচনের পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় প্রার্থীরা সিইসির কাছে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। প্রার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আশ্বস্ত করে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যে কোনও কিছু করতে রাজি ইসি। কোনও ধরনের অনিয়ম বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, আমরা কাউকে ছাড় দেব না। সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যে কোনও পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করবো। নির্বাচনকে ঘিরে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে ইসি কঠোর পদক্ষেপ নেবে। যারা হুমকি দিয়ে ভয়-ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে তাদের বিষয়ে প্রশাসনকে জানানোর জন্য তিনি আহ্বান জানান। এছাড়া ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ফোন না নিয়ে যেতে এবং কোনও নিয়ম ভঙ্গ না করতেও তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।
তবে খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাঙামাটিতে এসে আশার বাণী শুনিয়ে গেলেও প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা তাতে আশান্বিত হচ্ছেন না। বরং তাদের মধ্যে এখনও ভয়-ভীতি আর আতঙ্ক কাজ করছে। উল্টো নির্বাচনি পরিবেশের উন্নতি না হলে নির্বাচন বর্জনের চিন্তা-ভাবনা করছেন বলে জানিয়েছেন অনেক নেতা।
লংগদু উপজেলার বগাচত্বর ইউনিয়নের বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল গাফফার ভূইয়া বলেন, সরকারি দল চাইলে অবশ্যই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তারা যদি বল প্রয়োগ করে তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনও লক্ষণ নেই। আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে আছি।
নানিয়ারচর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ঝিল্লোল মজুমদার এখনও সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি দাবি করে বলেন, আমার পক্ষে যারা কাজ করছেন, আঞ্চলিক সংগঠনের নেতারা তাদের ডেকে ভয় ভীতি দেখাচ্ছেন। এমনকি আমার সঙ্গে যারা কাজ করবেন তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করারও ঘোষাণা দেওয়া হয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি না হলে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ এখনও উন্নতি হয়নি। এখনও ভয়-ভীতি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে প্রার্থী ও ভোটাররা। এভাবে চলতে থাকলে আমরা নির্বাচন বর্জনেরও ঘোষণা দিতে পারি। আশা করছি যে কয়দিন সময় রয়েছে তার মধ্যে নির্বাচনের একটি সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।
বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের জনসংহতি সমিতি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয় গিরি চাকমা বলেছেন, প্রশাসন যদি ঠিক থাকে, তবে নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হবে। এখানে নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার কোনও আশঙ্কা আমি দেখছি না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেছেন, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এটা আমরা চাই। তবে গত পৌরসভা নির্বাচন এবং বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে ইউপি নির্বাচনের চিত্র দেখে আমরা আশঙ্কায় আছি আদৌ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আশার কথা শোনালেও আশঙ্কা থেকে যায়। তবে আমরা আশা করছি রাঙামাটি ইউপি নির্বাচনে কোনও সমস্যা হবে না।
জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ শাহ আলম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের রাঙামাটি সফরের পর আমরা বিভিন্ন জায়গায় খবর নিয়েছি। তাতে নির্বাচনি পরিবেশের কোনও উন্নতি ঘটেনি। এক কথায় এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনও নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না।
আরও পড়ুন-
রাজশাহী চিড়িয়াখানা: বাঘ-সিংহ নেই, আছে শুধু ফাঁকা খাঁচা
‘অবৈধ বাংলাদেশি’ খুঁজে তালিকা করছে আসাম
/এফএস/এজে/