বুধবার দুপুরের দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরীর আদালতে ময়নালের অন্যতম দুই ঘাতক বদি ডাকাত ও বাবু মিয়া হত্যা ও মরদেহ গুমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির এসআই মো. সহিদুল ইসলাম।
এর আগে বদি ডাকাত ও বাবু মিয়ার উপস্থিতিতে গত মঙ্গলবার দুপুরে ডিবি পুলিশ জেলার মুরাদনগর উপজেলার জাড্ডা হাহাতি গ্রামের একটি খালের গভীর গর্ত থেকে ওই প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন,বদি ও বাবু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানান, ‘ময়নালকে হত্যার জন্য তার স্ত্রী তাছলিমা তাদের সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন। গত বছরের ১ নভেম্বর রাতে অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার পর ৫ হাজার টাকা করে ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়। গভীর রাতে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ও বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে ঘরের ভেতরই হত্যা করা হয় ময়নালকে। এ সময় ঘরের বাইরে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তাছলিমা আক্তার। হত্যা নিশ্চিত করার পর মরদেহ বাড়ির অদূরে একটি খালে নিয়ে অন্তত ৬ ফুট গভীরে গর্ত করে পুঁতে ফেলা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান,জবানবন্দীতে ওই দুই ঘাতক তাদের আরও ৬ সহযোগীর নাম প্রকাশ করেন।তাদের সবাই হত্যা ও লাশ গুমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের গ্রেফতারে ডিবি পুলিশের অভিযান চলছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে এই মামলার প্রধান আসামি নিহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তারকে গত ৮ মার্চ গ্রেফতারের পর তিনি হত্যা ও মরদেহ গুমের সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে আদালতে জবানবন্দী দেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টা ওই প্রবাসীর মরদেহ মর্গে পড়ে থাকার পরও ময়নাতদন্ত করেনি ফরেনসিক বিভাগ। এ প্রসঙ্গে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বহুল আলোচিত ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, ফরেনসিক বিভাগের এক ডাক্তার ছুটিতে থাকায় বোর্ড গঠনে বিলম্ব হয়েছে, তাই বৃহস্পতিবার ওই ব্যক্তির ময়নাতদন্ত হবে।
ফরেনসিক বিভাগের অপর একটি সূত্র জানায়, তনু হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম ময়নাতদন্ত এবং ১০ দিন পর ২য় ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ায় এই ফরেনসিক বিভাগের বিতর্কিত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে দেশব্যাপী এখন বিতর্ক চলছে।
তাই সাড়ে ৭ মাসের আগের ওই মরদেহের ময়নাতদন্ত নিয়ে ফরেনসিক বিভাগীয় প্রধান আর কোনও ঝামেলায় জড়াতে চান না। তাই বুধবার দিনভর তিনি এই বিষয়ে ফরেনসিক বিশেজ্ঞদের সঙ্গে করণীয় ও মরদেহের বিভিন্ন ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে নিশ্চিত হতেই ময়নাতদন্ত থেকে বিরত ছিলেন।
/জেবি/এমএসএম/আপ-এনএস
আরও পড়ুন: