নাসিরনগরে সহিংসতার ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সহিংসতার ঘটনায় জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় কমিটিকেই আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ভেঙে ফেলা হয় প্রতিমা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্র্যাট শামছুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন – নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্যাট মাসতুরা আহমেদ রাব্বী, সহকারী পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার্স) রাজন কুমার দাস। তাদের কে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

একই ভাবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে প্রধান করে অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন – জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ সুপার সোনিয়া পারভীন এবং গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন ভূইয়া। এই কমিটিকেও আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানান,জেলা পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান।

মন্দিরে হামলা চালানো হয়

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। ছবি পোস্টের কথিত অভিযোগে রবিবার স্থানীয়রা এক যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রবিবার সকাল থেকে নাসিরনগর সদরের কলেজ মোড় এবং খেলার মাঠে একাধিক ইসলামি দলের নেতারা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশ চলাকালে তিন থেকে চারশ লোক জড়ো হয়ে উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়ি-ঘর এবং মন্দিরে হামলা চালায়।

পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে কাজল দত্ত এবং নির্মল চৌধুরী বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। দুই মামলায় অজ্ঞাত ১২শ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১০ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

/এসএ/