পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে হরতাল-অবরোধ চলাকালে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশ কোচ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪০৮০) ৩ ফেব্রুয়ারি ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজারসংলগ্ন জগমোহনপুর এলাকায় পৌঁছালে বাসটিকে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোড়ে নাশকতাকারীরা। এ সময় বাসে ঘুমিয়ে থাকা যাত্রীরা আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলে সাতজন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরও একজন মারা যান।
নিহতরা হলেন, যশোরের গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদার নুরুজ্জামান পাপলু (৫০), তার মেয়ে যশোর মাইশা তাসলিম (১৪), কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার আবু তাহের (৩৮) ও আবু ইউসুফ (৪৫), নরসিংদীর পলাশ উপজেলার আসমা আক্তার (৩৮) ও তার ছেলে মাহমুদুল হাসান শান্ত (১৩), শরীয়তপুর জেলার ঘোষেরহাট থানার ওয়াসিম (৩৫)।
এ ঘটনায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় পাঁচ নেতাকে হুকুমের এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা চৌদ্দগ্রামের সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে প্রধান আসামি করে জামায়াত-বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। মামলা দুটির বাদী চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার।
দুটি মামলাতেই খালেদা জিয়া ও ডা. তাহের ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, যুবদলের কেন্দ্রীয় সদস্য কামরুল হুদা, উপজেলা জামায়াতের আমির সাহাব উদ্দিন, সেক্রেটারি শাহ মিজানুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তোফায়েল হোসেন জুয়েল, শিবির সভাপতি সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারীসহ ৫৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে শাহাবুদ্দিন নামের এক শিবির নেতা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় সোহেল নামে এক আসামি মারা গেছেন বলে পুলিশ জানায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহীম জানান, ঘটনাস্থলে নিহত সাতজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত না করায় পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ওই বছরের ২১ নভেম্বরে কক্সবাজারের ইউসুফ ও রাশেদুল ইসলামের মরদেহ, ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি যশোরের নুরুজ্জামান পাপলু ও তার মেয়ে মাইশা, ২ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুরের ওয়াসিমের এবং ১ মার্চ নরসিংদীর আসমা ও শান্তর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। মরদেহ উত্তোলন করতে গিয়ে মামলার তদন্তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এরই মধ্যে নিহতদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। মামলা দুটির চার্জশিট শিগগিরই আদালতে দাখিল করা হবে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল ফয়সল জানান, দেশব্যাপী আলোচিত এ মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চার্জশিট কিছুদিনের মধ্যেই হতে পারে বলে তিনি জানান।
/বিটি/