রোহিঙ্গাদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রাণ বিতরণ শুরু

Cox-Rohingya Riliffe pic-01বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া ত্রাণ সামগ্রী রোহিঙ্গাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন এসব ত্রাণ বিতরণ শুরু করেন।

এর আগে বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান মালেশিয়ার প্রতিনিধি দল। ওই সময় সেখানে থাকা ৫০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণের প্যাকেট তুলে দিয়ে প্রাথমিকভাবে ত্রাণ বিতরণের সূচনা করেন ওই প্রতিনিধি দল।

Cox-Rohingya Riliffe pic-04ত্রাণ বিতরণ সমন্বয় কমিটির প্রধান ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘আজ উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩শ’ ও টেকনাফের লেদা ক্যাম্পে ৩শ’ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন এসব এলাকায় থাকা ৭শ’ থেকে এক হাজার পরিবারের মধ্যে এই ত্রাণ বিতরণ করা হবে। এভাবে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ১৫ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে এসব ত্রাণ বিতরণ করা হবে।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘মালয়েশিয়া থেকে আসা ত্রাণ সামগ্রী ১৫ হাজার পরিবারকে টোকেনের মাধ্যমে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। এসব ত্রাণের মধ্যে ১৭ ধরনের পণ্য রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সীমান্ত পুলিশের ১২ সদস্য নিহত হয়। ওই হামলার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের দায়ী করে আসছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। এরপরই তাদের ওপর শুরু হয় দমন-পীড়ন। নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের সহায়তা দিতে ৩ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার জাহাজ নটিক্যাল আলিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে। মঙ্গলবার জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি জেটিতে এসে নোঙর করে। রাতেই সড়ক পথে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ত্রাণ নিয়ে আসা হয়।

/এমডিপি/