বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম জানান, সোয়াত ও অপর আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছে। তারা অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ডিআইজি জানান, জঙ্গি আস্তানায় আটকা পড়া মানুষদের নিরাপদে উদ্ধারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এর আগে ডিআইজি জানিয়েছিলেন, পুলিশ দোতলা বাড়িটিতে আটকা পড়া তিনটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে। আটকা পড়া পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের অভিযান শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তারা তিন ব্যক্তি দরজা-জানালা বন্ধ করতে দেখেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দোতলা বাড়িটিতে তিনটি ফ্ল্যাটে তিন পরিবারের অন্তত ২০ জন মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। আটকা পড়াদের জঙ্গিরা জিম্মি করেছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
এর আগে রাত দুইটার দিকে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের এডিসি ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল অ্যাসেসমেন্ট করছি। কোনদিকে পজিশন নেওয়া যায় সেগুলো পরখ করে দেখছি। এরপরই অভিযান চালানো হবে।’
তবে সোয়াতের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জঙ্গি আস্তানাটির পজিশনটা খুব ক্রিটিক্যাল। সামনের দিক দিয়ে আগালে জঙ্গিদের মুখোমুখি পড়তে হয়। এছাড়া আলো-আঁধারি থাকার কারণে ভালো করে দেখাও যাচ্ছে না। ফলে ভালো করে পরখ না করে অভিযান চালানো হবে না।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, একই সঙ্গে ওই ভবনের অন্য বাসিন্দাদের কিভাবে নিরাপদে বের করে আনা যায় তার প্রচেষ্টা চলছে। তা না হলে সাধারণ মানুষের কেউ ক্যাজুয়ালিটির শিকার হতে পারেন। জঙ্গি আস্তানার পাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগযাযোগ করে পরিস্থিতি সম্পর্কে আঁচ করার চেষ্টা চলছে।
সীতাকুণ্ডের প্রেমতলার ‘ছায়ানীড়’ নামের দোতলা বাড়িটি বুধবার (১৫ মার্চ) দুপুর ৩টা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘিরে রাখে। পুলিশ জানিয়েছে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া তিন জঙ্গি জেএমবির সদস্য। ঘটনাস্থলে র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সিএমপির সোয়াত টিম ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট উপস্থিত রয়েছে। রাত পৌনে একটার দিকে তিনটি গাড়িতে করে ঢাকা থেকে রওনা দেওয়া সোয়াত টিমের কয়েকজন সদস্য পৌঁছান ঘটনাস্থলে।
জঙ্গি আস্তানা থেকে দেড়শ গজ দূরে অবস্থানরত বাংলা ট্রিবিউনের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি রাত চারটার দিকে জানিয়েছেন, তখনও থেমে থেমে ছায়ানীড় বাড়ি থেকে গুলির শব্দ আসছিল। গুলির শব্দে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ আশপাশের সবগুলো বাড়ির বাতি নিভিয়ে দিয়েছে এবং পুরো এলাকাটি একেবারে সিল করে দিয়েছে। জঙ্গি আস্তানার চারপাশে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
এদিকে সীতাকুণ্ডে আরেকটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে দুই জঙ্গিকে আটক করেছে পুলিশ। পৌরসভার আমিরাবাদ এলাকায় নামারবাজারে ‘সাধনকুটির’ নামের একটি বাড়ি থেকে জসিম ও আরজিনা নামের এই দুই জঙ্গিকে আটক করা হয়।তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়েছে। এখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি জানিয়েছেন, দুটি জঙ্গি আস্তানার মধ্যে সংযোগ থাকতে পারে।
/এএ/