হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম

feni cti

ফেনির বেসরকারি সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ হাইকোর্টের নির্দেশ না মেনে এখনও শত বৎসরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যে কোনও মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানী ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এই ব্যাপারে আবদুর রশিদ বাবুল নামে এক অভিবাবক হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন।

অভিভাবক আবদুর রশিদ বাবুল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত ১৩ ফ্রেবুয়ারি হাইকোর্ট ফেনী সিটি কলেজ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করে তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। বিচারপতি নাইমা হায়দার, আবু তাহের ও সাইফুর রহমানের গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।  একই সঙ্গে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ নয় জনকে আদালত এ নির্দেশ দেন। এ আদেশের পরও আইনের তোয়াক্কা করছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরও এইচএসসি ভর্তির কার্যক্রম শুরু করেছে এবং প্রত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছে।

অন্যদিকে ফেনী পৌর সভার নির্বাহী প্রকোশলী আব্দুল আজিজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘ভবনটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় ‌২০১৩ সালের ১৬ জুন ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা ফেনী পৌরসভা বরাবর একটি আবেদন করে। ওই আবেদনের পর পৌর মেয়র ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। একই সঙ্গে  নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই স্থান থেকে কলেজটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কলেজ কতৃপক্ষ সেই নির্দেশটি কার্যকর করেনি।’

এ ব্যাপারে ফেনী সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জিয়া বলেন,ভবনটি ঝূঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখান থেকে শ্রেণী কক্ষ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আপতত ভবনটিতে কয়েকজন ছাত্রের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ফেনী শহরের এসএসকে রোডে একশ’ বছরের পুরানো ও ঝুঁকিপূর্ণ  একটি ভবনে ২০১১ সালের দিকে ফেনী বেসরকারি সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়।  ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ভবনটি থেকে কলেজটি সরিয়ে ফেলাসহ ভেঙে ফেলার দাবি জানায়।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: ভারতের কারাগারে বন্দি জীবন কাটছে বিলুপ্ত ছিটমহলের শতাধিক মানুষের