সুবিধাবাদীদের ষড়যন্ত্রের কারণে পাহাড়িদের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। তিনি বলেন, ‘জনসংহতি সমিতি এখনো স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে লড়াই করে যাচ্ছে। কিন্তু, সরকার ও সেনাবাহিনী এই লড়াইকে ‘সন্ত্রাসী’ কর্মাকাণ্ড বলে তা ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর চুক্তি হলেও এর বিরোধীতাকারীদের সরকার এখনও জামাই আদরে রেখেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘প্রতিক্রিয়াশীল, সুবিধাবাদী ও চুক্তি বিরোধীদের রুখে দাঁড়ান, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে ইস্পাত কঠিন আন্দোলন সংগঠিত করুন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সন্তু লারমা আরও বলেন,‘চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ি জনগণের বুকে যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আছে, তা একদিন বেরিয়ে আসবে। আমাদের আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, শাসকগোষ্ঠী আমাদের ওপর যে শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চাইছে, আমরা তা মেনে নেব, নাকি আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করবো।’
শনিবার সকালে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বাচ্চু চাকমা। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এম এন লারমা ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম টনক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক মহিউদ্দিন মাহিম, বসুমিত্র চাকমা, সাহিত্যিক শিশির চাকমা, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানি শুভ, ছাত্র ফ্রন্ট সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, যুব সমিতি জেলা সভাপতি টোয়েন চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি চন্দ্রা ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুমন মারমা।
এসময় বক্তারা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের ১৯ বছর পার হলেও তা পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবং চুক্তি বিরোধী নানা ষড়যন্ত্রের কারণে এখানকার পরিস্থিতি আবারও জটিল আকার ধারণ করেছে।’ আন্দোলনের মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন বক্তারা।
বিকেলে গণসঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার প্রতিনিধি সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।
/জেবি/এমএ/
আরও পড়তে পারেন: ব্যাপারী না আসায় সংকটে গাজীপুরের লিচু বাগান মালিকরা