এখনও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বান্দরবানের কয়েক হাজার মানুষ

বান্দরবানে পাহাড় ধসগত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বান্দরবানের বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত সেখানে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটনা ঘটেছে। এর পরপরই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা বসবাসকারীদেরকে যথাসম্ভব নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও এখনও পাহাড় ধসের অধিক ঝুঁকি নিয়েই সেখানে বসবাস করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পাহাড় ধসের ঝুঁকি আছে এমন স্থান থেকে ৫৩১টি পরিবারের ২ হাজার ২৭৬ জনকে বান্দরবানে ১০টি আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্য মতে, পাহাড়ের পাদদেশে এখনও প্রায় ৩০ হাজারের বেশি পরিবার বসবাস করছে। তাদের অনেকেই রয়েছে পাহাড় ধসের অধিক ঝুঁকিতে। সদর উপজেলার কাসেমপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপা পাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, স্টেডিয়াম এলাকা, নোয়াপাড়া, কসাইপাড়াসহ সাতটি উপজেলা প্রায় ৩০ হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, যারা অধিক ঝুঁকিতে আছে তাদের অনেকজনকে প্রশাসন সরিয়ে নিলেও অনেকেই ঝুঁকি নিয়েই নিজ বাড়িতেই রয়ে গেছে। অনেকেই নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যেতে চায় না। প্রশাসন মাত্র কয়েক পরিবারকে সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ পরিবারকে এখনও সরিয়ে নিতে পারেনি।

বান্দরবান মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম জানান, যারা শহরে থাকে তাদেরকে নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হলেও যারা দুর্গম এলাকায় থাকে তাদেরকে সরিয়ে আনা কখনওই প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব নয়। দুর্গম এলাকায় এখনও অনেক পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দিদারে আলম মো. মাকসুদ চৌধুরী বলেন, ‘পাহাড় ধসের ঝুঁকি আছে এমন জায়গা থেকে যথাসম্ভব পরিবার গুলোকে সরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা সব সময় সর্তক ছিলাম, যার কারণে দুর্ঘটনা অনেক কম হয়েছে। ইতোমধ্যে যারা মারা গেছে প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।’

সরকারিভাবে প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে জানা গেছে, কয়েক বছরে জেলায় ২০০৬ সালে জেলা সদরে ৩ জন, ২০০৯ সালে লামা উপজেলায় শিশুসহ ১০ জন, ২০১০ সালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ৫ জন, ২০১১ সালে রোয়াংছড়ি উপজেলায় দুইজন, ২০১২ সালে লামা উপজেলায় ২৮ জন ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ১০ জন, ২০১৫ সালের লামায় ৪ জন, সিদ্দিকনগরে ১ জন ও সদরের বনরূপায় ২ জন এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে সদরের কালাঘাটার দুটি স্থানে ৩ জন, লেমুঝিড়ি আগা পাড়ায় ৩ শিশু ও কুহালংয়ের ঘুংগুরু আগা পাড়ায় ৩ জন পাহাড় ধসে মারা যায়।

/এআর/