একমাস ধরে ভাসমান জীবন কাটাচ্ছেন রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় বিদ্বেষের আগুনে ঘর-বাড়ি হারানো পাহাড়িরা । মানিকজোড়ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটিলা বৌদ্ধ বিহার ও নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন আগুনে ঘরহারানো পাহাড়িরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নতুন করে ঘর বানিয়ে দেওয়াসহ ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিলেও এখনো শুরু হয়নি পুনর্বাসনের কাজ।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কিরণ চাকমা বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়নি। পথে-ঘাটে রাত কাটাচ্ছি। আমরা দ্রুত বাড়ি ফিরতে চাই।
লংগদু সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা (আদু) জানান, গত একমাস ধরে মানুষগুলো গৃহহীন। ভরা বর্ষায় বাইরে থাকার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ছোট বাচ্চাদের বই-খাতা পর্যন্ত পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অনেক ছাত্র-ছাত্রী এখনও কলেজে ভর্তি হতে পারেনি।
রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা জানান, রাঙামাটি জেলা পরিষদের মাধ্যমে গত ২৩ জুন থেকে ত্রাণ সহায়তাসহ সার্বিক সহযোগিতা শুরু করেছে পার্বত্য মন্ত্রণালয়। প্রতি পরিবারের জন্য ৫ হাজার টাকা করে মোট ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তাদের জন্য আরও ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার কাপড় ও ২৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য পাঠানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ হয়েছে এবং কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ টাকা হাতে পাওয়া যাবে। বরাদ্দ পেলেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হবে।
নয়ন হত্যার ঘটনায় ৯ জুন দীঘিনালা থেকে রমেল চাকমা ও জুনেল চাকমা নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ১১ জুন তারা নয়ন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয় বলে জানায় পুলিশ। নয়নের মোটর সাইকেলটিও দীঘিনালার মাইনি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুই ব্যক্তি পুলিশকে জানিয়েছে, মোটরসাইকেল ছিনতাই করার জন্যই তারা নয়নকে হত্যা করে। তবে ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় মোটরসাইকেলটি সরাতে না পেরে মাইনী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
ছবি: রাঙামাটি প্রতিনিধি
/এএইচ/টিএন/আপ-এমও/