গত দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পানির তোড়ে ফেনীর সোনাগাজীতে দুটি মিনি স্লুইসগেট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে উপজেলার ১০টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এর ফলে ৫টি গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে আছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
চর দরবেশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ভুট্টু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত কয়দিনের ভারী বর্ষণের কারণে ফেনির ইঞ্জিমান খালের ওপর নির্মিত মিনি স্লুইসগেট এবং ৯ নং মিনি স্লুইস গেট ছোট ফেনী নদীর মোহনায় বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে উপজেলা সদরে সঙ্গে যোগাযোগ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে ১০টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়ায় এলাকায় স্থায়ী জলাদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে, কম পক্ষে বিশ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ফেনীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কোহিনুর আলম বাংলা ট্রিবিউনের কাছে বিষয়টির স্বীকার করে বলেন,‘এ অঞ্চলকে সাগরের লোনা পানি থেকে রক্ষা এবং মিঠা পানি ধরে রাখার জন্য ১২টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ধসে গেছে। বাকি ১০টি অকেজো হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন,‘অকার্যকর পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোগুলোসহ মোট ১৪টি অবকাঠামো নতুনভাবে নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে। তখন এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম জানান, উপকূলীয় জনগণকে ছোট ফেনী নদীর জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করতে ১৯৬৫ সালে তৎকালীন সরকার ২০ কিলিমিটার দীর্ঘ আউটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। বেড়িবাঁধের ৫টি স্থানে (ছোট ফেনী নদীর মোহনাগুলোয়) কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিসহ লোনা পানি যাতে না ঢুকে তার জন্য ১২টি মিনি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। ১৯৮২ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে মিনি স্লুইস গেট সংস্কার করা হলেও দীর্ঘদিনের অব্যাবস্থাপনার কারণে সেগুলো ব্যাবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: সেলফির জন্য ত্রাণ!