ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি শিশু পরিবারের বর্ণিল ঈদ

২২



ঈদ মানে খুশি। আর এই ঈদের খুশির জোয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ‘সরকারি শিশু পরিবারে’র শিশুদের মাঝেও নেমে এসেছে।

সরেজমিনে ঈদের দিন সকালে সরকারি শিশু পরিবারের গিয়ে দেখা যায় অনাথ শিশুরা বাসন্তি রঙ্গের পোষাক পরে দৌর, ঝাপ করছে ফটো তুলছে। অনেকে আবার নামাজ আদায় করে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছে। শিশুদের চোখে মুখে ছিল বাধ ভাঙা আনন্দের ছাপ। এই উৎসব আর আনন্দকে সুন্দর করে তুলতে তাদের সঙ্গ দিচ্ছেন সরকারি শিশু পরিবারের আলোচিত উপ-তত্ত্বাবধায়ক সেই রওশনারা খাতুন। যার অক্লান্ত প্রচেষ্টার কারণে সম্প্রতি এই শিশু পরিবারের এক সদস্য হাবিবার জামজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৯৯৯


এসময় কলেজ পড়ুয়া সরকারি শিশু পরিবারের সদস্য হাজেরা আক্তার ও শায়লা শবনম শিফা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঈদ অনেক কাটিয়েছি তবে এবারের ঈদ আমাদের কাছে অন্য রকম ভালো লাগছে। অন্যবারের ঈদের চেয়ে এবার আমাদের শিশু পরিবার অনেকটা বর্ণিল সাজে সেজেছি।

তারা জানায়, শুক্রবার আমরা রাত জেগে মেহেদী উৎসব করেছি। পাশপাশি নিজস্ব মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে দিপু নাম্বার-টু মুভিটি দেখেছি। গতকাল রাত থেকেই আমাদের ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।


আরেক শিক্ষার্থী সুবর্ণা আক্তার জানান, আনন্দ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেওয়া হচ্ছে বিশেষ খাবার। আর খাবারসহ সব আয়োজনের খোঁজখবর রাখছেন ম্যাডাম নিজে।

৬৬৬
ঘুড়তে-ঘুড়তে কথা হয় সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক রওশনারা খাতুনের সঙ্গে। তিনি সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘শিশুদের জন্য কিছু করতে পারলে নিজের মধ্যে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি পাই। আনন্দ পাই। এ কারণেই শিশুদের নিয়ে কাজ করছি, তাদের সঙ্গ দিচ্ছি।’




রওশনারা জানান, সরকারি শিশু পরিবারে মোট ৯৫ জন অনাথ শিশু রয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও সরকারি শিশু পরিবারের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী এমপি এবং জেলা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার একটি গরু কোরবানি দিয়েছেন। 

তিনি আরও জানান, অনাথ শিশুরা আজ  উৎফুল্লভাবে ঈদের নামাজ আদায় করেছে। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণের পাশপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী এমপি, জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারসহ সবার জন্য দোয়া করেছে।








খাবারের ম্যানুর ব্যাপারে তিনি জানান, সরকারি শিশু পরিবারের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়, শিশুদের সকালের নাস্তায় পরোটা ও লাচ্ছা সেমাই দেওয়া হয়েছে। দুপুরে আছে পোলাও, গরুর মাংস ভুনা, মুরগির রোস্ট, সালাদ, কোমল পানীয় আর দই। তাদের জন্য বিকেলের নাস্তায় আছে আপেল আর ছানার সন্দেশ।

৬৬৬৫৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান,আল মামুন সরকার বলেন, আমি চেয়ারম্যান থাকার সময় সরকারি শিশু পরিবারের জন্য জায়গাটির ব্যবস্থা করেছিলাম। শিশু পরিবারের শিশুরা ঈদে বর্ণিল উৎসব পালন করছে, শুনেও বেশ ভালো লাগছে। সব সময় তাদের খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করি।’ সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে অনাথ শিশুদের সহযোগীতা করা কোনও বিষয়ই না।



জেলা সমাজ সেবা অধিদফতরের উপ পরিচালক মোস্তফা মাহমুদ সায়োয়ার বলেন,‘শিশুরা যাতে সব সময় এমন আনন্দ উচ্ছ্বাসে থাকে, আমরা  সেটাই চাই।’

আরও পড়তে পারেন: ঈদে মাকে বাড়ি উপহার দিলেন মাশরাফি

Send