বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানের তুলনা করে প্রশ্নপত্র: ১০ শিক্ষকের জামিন

চট্টগ্রামজাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সঙ্গে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে তুলনা করে প্রশ্নপত্র প্রনয়ণ ও ওই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকা ১৩ শিক্ষকের মধ্যে ১০জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ হেলাল চৌধুরীর আদালত তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই রায়ে আদালত অপর তিন শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কারাগারে থাকা ১৩ শিক্ষকের জামিন আবেদন করেছিলাম আদালতে। শুনানি শেষে মঙ্গলবার আদালত ১০ শিক্ষকের জামিন মঞ্জুর করেছেন।’

জামিন আদেশ পাওয়া ওই ১০ শিক্ষক হলেন, আনোয়ারা উপজেলার পাঠানিকোঠা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক, আনোয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদল চন্দ্র দাশ, পটিয়া উপজেলার মোজাফফরাবাদ এমজে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইউসুফ, একই উপজেলার হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শ্যামল কান্তি দে, সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিত চারণ, একই উপজেলার চন্দনপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এম ওয়ায়েদ উদ্দিন, বোয়ালখালী উপজেলার মনসুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী, একই উপজেলার কদুররখিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমির হোসেন, চন্দনাইশ উপজেলার কেশুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজন ভট্টাচার্য ও একই উপজেলার বড়মা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ হোসেন।

অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল বলেন, ‘আদালত প্রশ্নপত্র প্রনয়নকারী দকুল বড়ুয়া, বাঁশখালী উপজেলার নাসেরা খাতুন আরকে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের ও একই উপজেলার রায়ছটা প্রেমাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মোহাম্মদ মিয়ার জামিন আবেদন আদালত মঞ্জুর করেননি। তারা তিনজনই কারাগারে রয়েছেন।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত নবম শ্রেণির অর্ধ-বার্ষিকী পরীক্ষায় ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ের সৃজনশীল প্রশ্নে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বাঁশখালী গন্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীকে তুলনা করে প্রশ্নপত্র প্রনয়ন করা হয়। পরে ওই প্রশ্নপত্রে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬টি উপজেলার ৯৭টি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়।

পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী বাঁশখালী বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক দুকুল বড়ুয়াকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলিশে সোপার্দ করেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ছয়টি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারীকে আসামি করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করে রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলা দায়েরের পর ১৩ শিক্ষক সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন থেকে তিন মাসের আগাম জামিন লাভ করে। ২৩ আগস্ট আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ফের জামিন আবেদন করতে গেলে আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এক মাস কারাগারে থাকার পর মঙ্গলবার আদালত ১০ শিক্ষকের জামিন মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানকে তুলনা করে প্রশ্নপত্র, ১৩ শিক্ষক কারাগারে