ব্রাহ্মণবাড়িয়া গগন সাহা বাড়ি পূজা মণ্ডপের পুরোহিত পণ্ডিত নান্টু চক্রবর্তী বলেন, ‘অষ্টমী তিথি শেষ হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে এবং নবমী তিথি শুরু হওয়ার প্রথম ২৪ মিনিটকে বলা হয় সন্ধিক্ষণ । ঠিক এই সময়েই দেবী দুর্গা চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই ভয়ঙ্কর অসুরের নিধন করেছিলেন। এই ঘটনা স্মরণ করে রাখার জন্যই প্রতি বছর অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে এই সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পূজায় ৬৪টি প্রদীপ জ্বালিয়ে দূর্গা মায়ের কাছে প্রদীপ প্রদর্শন করা হয়। দেবী দূর্গা মায়ের কাছে আরাধনা করা হয়। দূর্গা যেন অসুর বধ করে সর্বত্র শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।’
পৌরাণিক কাহিনীতে বলা হয়, মহিষাসুরের সঙ্গে যখন দুর্গা ভয়ানক যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, সেইসময় মহিষাসুরের দুই বন্ধু চণ্ড ও মুণ্ড পেছন থেকে দেবীকে আক্রমণ করে। রণনীতির চুক্তি ভঙ্গ হওয়ায় দেবী ভিষণ ক্ষিপ্ত হন এবং রাগে তাঁর মুখ নীল হয়ে যায়। দেবী তাঁর ত্রিণয়ন উন্মীলিত করেন এবং চামুণ্ডা রূপ ধারণ করেন। ঘনীভূত রক্তের কালীরই অন্য রূপ হল চামুন্ডা রূপ। চামুন্ডা রূপে দেবী দুর্গা চণ্ড ও মুণ্ডের মাথা কেটে নেন তাঁর হাতের খড়্গ দিয়ে। দেবীর এই চামুণ্ডারূপেরই আরাধনা করা হয় সন্ধি পূজার মাধ্যমে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরপরই মন্দিরে মন্দিরে সন্ধি পূজা শুরু হয়। সেই সঙ্গে শঙ্খ আর ঢাকের আওয়াজে মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় ভিন্ন আমেজ। অষ্টমী দিনরাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সী মানুষের সমাগমে মুখোরিত হয়ে উঠে প্রতিটি পূজা মণ্ডপ।
শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে মহা নবমীপূজা। নবমী যজ্ঞ, বলি অনুষ্ঠিত হবে। নবমী পূজার রাতে দর্শনার্থীদের আরও ভিড় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শনিবার বিজয়া দশমীর মধ্যদিয়ে শেষ হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।
আরও পড়ুন- কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা কল্পনা করে পূজা সম্পন্ন