প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান নিয়ে যুবদলের সঙ্গে পুলিশ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, আহত ৪০

যুবদলকে ঠেকাতে পুলিশের সঙ্গে লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অবস্থান

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫৫ রাউন্ড গুলি এবং ১৪ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে শনিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে পুলিশসহ ৪০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ৭ যুবদল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে যুবদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন উপলক্ষে শনিবার বিকালে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথমে একটি মিছিল বাজার প্রদক্ষিণ করে বিশ্বরোডের মুখে আসলে পুলিশ তাদের স্লোগান বন্ধ করতে বলে এবং ব্যানার কেড়ে নেয়। এসময় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্বরোড এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে দু’দলের নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আক্তার হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়। সভা শেষ হওয়ার পরপরই পুলিশ যুবদলের নেতাকর্মীদের এক জায়গায় জড়ো করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ছুঁড়লে যুবদল নেতাকর্মীরা রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এ খবর হাজীগঞ্জ বাজারে ছড়িয়ে পড়লে পূর্ব বাজার ও মধ্যবাজারে যুবদল ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রায় ৪০ জন আহত হন। সন্ধ্যার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়।

যুবদলের নেতাকর্মীরা টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ করেযুবদলের সভাপতি আক্তার হোসেন দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন বলেন, পুলিশ ও ছাত্রলীগ আমাদের শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠান ষড়যন্ত্র করে পণ্ড করেছে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জাবেদুল ইসলাম বলেন, বিকালে যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে হাজীগঞ্জে বিএনপি অফিসের সামনে নেতাকর্মীরা সড়ক ব্লক করে অনুষ্ঠান করছিল। আমরা তাদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা তা না করে উল্টো  উশৃঙ্খল কর্মীদের দিয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।