সোমবার দুপুরে নগরীর আসকার দীঘির পাড়ে অবস্থিত ওই কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ১০-১৫ জন শ্রমিক সংস্কার কাজ করছেন। তার পাশেই চেয়ারে বসে কাজ তদারকি করছেন কমিউনিটি সেন্টারের মালিক সাহাব উদ্দিন। সেখানে কমিউনিটি সেন্টারের ম্যানেজার আব্দুল মান্নানও উপস্থিত ছিলেন।
কমিউনিটি সেন্টারের মালিক সাহাব উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের একটা ড্রয়িং দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী সংস্কার কাজ করতে বলা হয়েছে। পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আজ প্রবেশপথের সংস্কার কাজ শুরু করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে, সংস্কার শেষ হওয়ার পর আমরা আবার অনুষ্ঠানের বুকিং নিতে পারবো। তখন এখানে প্রোগ্রাম আয়োজনে কোনও বাধা থাকবে না।’
কমিউনিটি সেন্টারের ম্যানেজার আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘পুলিশের করা ড্রয়িংয়ে আগে ঢালু পথটি অনেকটা খাড়া ছিল। এখন সেটি দীর্ঘায়িত করে ঢালটি কমাতে বলা হয়েছে।পাশাপাশি প্রবেশপথের ডানপাশে তিন ফুট উঁচু দেয়াল তুলে দিতে বলা হয়েছে। দুজন ইঞ্জিনিয়ারের উপস্থিতিতে আমরা পুলিশের ড্রয়িং অনুযায়ী সংস্কার কাজ করছি।’
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের তদন্ত প্রতিবেদনে কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশপথের নির্মাণ ত্রুটির বিষয়টি ওঠে আসে। সেই কারণে আমরা কমিউনিটি সেন্টারের মালিককে অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারের সহায়তায় ত্রুটি অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছি। তারা আমাদের নির্দেশনায় কাজ শুরু করেছে। ত্রুটি অপসারণের পর ওই কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে আর বাধা থাকবে না।’
গত ১৮ ডিসেম্বর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে অংশ নিতে গিয়ে এই কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশপথে পদদলিত হয়ে ১০ জন মারা যান। এই ঘটনায় ওইদিন থেকে কমিউনিটি সেন্টারটিতে অনুষ্ঠান আয়োজন সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় নগর পুলিশ।
এই ঘটনায় ওইদিন নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। এই কমিটি গত ২১ ডিসেম্বর পুলিশ কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে ওই দুর্ঘটনার জন্য তিনটি কারণকে দায়ী করা হয়। এরমধ্যে কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশপথের নির্মাণ ত্রুটিকে অন্যতম হিসেবে দেখানো হয়। অন্য দুটি কারণ হলো, অতিরিক্ত ভিড় ও অব্যবস্থাপনা।