আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া তৌফিকেরও এখনও জ্ঞান ফেরেনি। তার ফুফাতো ভাই বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তৌফিককে কুমিল্লা থেকে ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে স্কয়ার হাসপাতাল থেকে এ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের (কুমেক) ছাত্রাবাসে বৃহস্পতিবার (০৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে কুমেকের ২৩তম ব্যাচের ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিক আহমেদ ও ইরফানুল হকও আহত হন।
বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে শেখ রাসেল ছাত্রাবাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে জড়ানো ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক দুই সভাপতি আবদুল হান্নান ও হাবিবুর রহমান পলাশের অনুসারী বলে জানা গেছে।
কুমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুহসিন উজ জামান চৌধুরী বলেন, ‘কলেজ ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ। কোনও ছাত্র সংগঠন বা অন্য কোনও নামে এখানে রাজনীতি করা যাবে না, যা আগেই বলে দেওয়া হয়েছে।’
কলেজ উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা প্রশাসনকে অবগত করেছি। পুলিশকে বলেছি, যারা নিয়মভঙ্গ করেছে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। যারা আহত হয়েছে, তাদের চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
শুক্রবার (০৫ জানুয়ারি) কুমেক উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্তক্রমে ছাত্র-ছাত্রীদের দুপুরের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্লাস ছুটি ঘোষণা করা হয়। উপাধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার, সার্জারি, গাইনি, মেডিসিন বিভাগের প্রধানসহ ৭ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়। সভা শেষে শিক্ষকরা ঘটনাস্থল ও ছাত্রাবাস পরিদর্শন করেন। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আবু সালাম মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মেডিক্যালের ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনও মামলা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহজনক দুই জনকে থানায় আনা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর ছাত্রলীগের দু’পক্ষ মিছিল বের করে। মিছিল শেখ রাসেল ছাত্রাবাস ও ডা. শাহ আলম ছাত্রাবাসের মাঠে এলে সংঘর্ষ বাধে। আহত সবাই হাবিবুর রহমান পলাশ গ্রুপের সদস্য। কুমেকের ২য় ব্যাচের ছাত্র ডা. আবদুল হান্নান ও ৮ম ব্যাচের ছাত্র ডা. হাবিবুর রহমান পলাশের নেতৃত্বে মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র রাজনীতি পরিচালিত হয়ে আসছে। আবদুল হান্নান স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরি সদস্য ও একই সংগঠনে হাবিবুর রহমান পলাশও রয়েছেন।
হামলার শিকার পারভেজ নামের এক ছাত্র জানান, জয়দিব, আনোয়ার, মাসুদসহ হান্নান গ্রুপের আরও কয়েকজন তাকে পেছন থেকে আক্রমন করে।
ইফতেখার নামের এক ছাত্র জানান, পলাশ গ্রুপের সদস্য মিরাজ, ফারহান, সাদিক, নাজমুল, সজিব সানী, মহিউদ্দিন মাহি, তানভীর আমাদের রুমের জানালায় এসে উস্কানিমূলক কথা বলে ও দরজায় লাথি মারে।
গত ১ নভেম্বর কুমেকে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ জনকে বহিষ্কার করা হয়। ৯ জনকে মুচলেকা ও ৫ ইন্টার্ন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়তে পারেন: ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর কুমিল্লা মেডিক্যাল বন্ধ