ভারতীয় শিক্ষার্থী আতিফ শেখ হত্যায় বন্ধু উইনসন সিং জড়িত

আতিফ শেখভারতীয় শিক্ষার্থী আতিফ শেখকে হত্যার ঘটনায় তার স্বদেশি বন্ধু উইনসন সিং জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউএসটিসিতে অধ্যায়নরত আতিফ শেখের খুনের ঘটনায় তার সহপাঠী উইনসন সিং জড়িত। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ছুরির বাঁটে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে উইলসনের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।’
পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ভাঙা ছুরির দুই অংশে দুই ধরনের ডিএনএ পাওয়া গিয়েছিল। ছুরির বাঁটে ভিন্নজনের ডিএনএ পাওয়ার পর ওই ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আমরা আদালতে আবেদন করেছিলাম। পরে আদালতের নির্দেশে গত ২১ জানুয়ারি উইলসন ও নিরাজ গুরুর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়। সিআইডি ল্যাব থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, ছুরির বাঁট থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে উইলসনের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। অপর স্বদেশি নিরাজ গুরুর ডিএনএ ছুরিতে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।’
গত বছরের ১৪ জুলাই রাতে নগরীর আকবর শাহ থানাধীন আব্দুল হামিদ সড়কের পাশে লেকভিউ সোসাইটির একটি আবাসিক ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আতিফ শেখ ও তার বন্ধু উইলসন সিংকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় তাদের আরেক স্বদেশি সহপাঠী নিরাজ গুরু। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আতিফকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। অন্যদিকে উইলসন গলায় ফাঁস দিলে গুরুতর আহত হয়।
ভারতীয় এই তিন শিক্ষার্থী তাদের এক বান্ধবীসহ ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। এ ঘটনার চারদিন পর আতিফ শেখের বাবা আব্দুল খালেক চট্টগ্রামে এসে আকবর শাহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় কাউকে সুনির্দিষ্ট আসামি না করলেও আটজনকে সন্দেহভাজনের তালিকায় রাখেন।
এ ঘটনায় থানা পুলিশ নিরাজকে গ্রেফতার করে। নিরাজ আদালতে জবানবন্দিতে জানান, সে ঘটনার বিষয়ে কিছু জানে না। দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে সে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এদের মধ্যে আতিফকে ওই কক্ষে ছুরিকাঘাত অবস্থায় এবং উইলসনকে গলায় বেল্ট দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পায় সে।
পরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হলে পিবিআই সদস্যরা এই মামলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা উইলসন সিংকে গ্রেফতার দেখায়। পরে সুস্থ হওয়ার পর পুলিশ দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে উইলসনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনও তথ্য না দেওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানান। পরে আদালতের নির্দেশে উইলসন ও নিরাজ গুরুর ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।