অধ্যক্ষ ফেন্সি হত্যাকাণ্ড: ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কায় স্বজনরা

নিহত অধ্যক্ষ ফেন্সি ও তার স্বামী অ্যাডভোকেট জহির

চাঁদপুরে অধ্যক্ষ শাহীন সুলতানা ফেন্সি হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কায় আছেন তার মেয়ে ও স্বজনরা। হত্যাকাণ্ডের জন্য অ্যাডভোকেট জহির তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখা বেগমকে অভিযুক্ত করে রবিবার চাঁদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের ছোট মেয়ে ও স্বজনরা । এসময় তারা দোষিদের শাস্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন নিহতের ছোট মেয়ে ডা. ফাতিমা শাহীন পুষ্প। তিনি বলেন, ‘গত ৪ জুন সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে আমার মা অধ্যক্ষ শাহীন সুলতানা ফেন্সি তার নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। আমার বাবা অ্যাডভোকেট জহির তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখা বেগমের সহযোগিতায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।’

তিনি বলেন,‘আমার বাবা অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম অনুমানিক চার বছর আগে দুই সন্তানের জননী জুলেখা বেগমের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত তিনি সকলের অগোচরে ওই নারীকে বিয়ে করেন। শুনেছি ওই নারী তখন অন্তঃস্বত্ত্বা ছিল। আমার বাবার এই অনৈতিক সম্পর্ক ও বিয়ে আমারা বোনেরাসহ আমার মা কখনোই মেনে নেইনি। যা নিয়ে আমার মায়ের সঙ্গে আমার বাবার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো এবং বাবা আমার মাকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। আমার বাবা প্রকাশ্যেই আমার মাকে জীবননাশের হুমকি দিতেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রীও মোবাইলে আমার মাকে হত্যার হুমকি দিতো। যা আমার বোনেরা শুনেছি এবং দেখেছি।’

তিনি আরও বলেন,‘ এ ব্যাপারে মাকে সাবধান করা হয়। মায়ের নিরাপত্তার জন্য বোনেরা তাকে ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মা বাবাকে ফেলে বোনদের সঙ্গে যাননি। গত ৪ জুন সন্ধ্যায় আমার বাবা তার দ্বিতীয় স্ত্রীর প্ররোচনায় ও পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার মাকে খুন করেছেন। পরে দুজনে মিলে খুনের আলামত নষ্ট করে এটাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে। খুনের আলামত নষ্টসহ আগে-পরের নানা ঘটনাই প্রমাণ করে আমার বাবা অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামই আমার মায়ের খুনি। তাছাড়া আমার মা জীবদ্দশায় আমাদের বলতেন, ‘আমার যদি অস্বাভাবিক মৃত্যুও হয় তবে তোমরা তোমাদের বাবাকে ছাড় দিও না।’

নিহতের মেয়ে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শংকাবোধ করে বলেন, ‘মানুষ যখন চরম বিপদের সম্মুখীন হয় এবং যে কোনো বিষয়ে ন্যায় বিচার প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কাবোধ করে তখন মিডিয়ার শরণাপন্ন হয়। আমরা আজ আপনাদের দ্বারস্থ হয়েছি। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন কোনভাবেই প্ররোচিত না হয়।’

তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘আমার মা একজন অধ্যক্ষ ও সরকার দলীয় নেত্রী। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে চাঁদপুরের লোকজন চুপ করে আছেন।’

নিহতের বড় ভাই মামলার বাদী ফোরকান খান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনও দিকের চাপ দেখিনি। পুলিশ আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। তদন্ত কাজও ভালোভাবেই চলছে বলে মনে হচ্ছে। তবে আইনজীবীরা যেভাবে আসামির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সেটি খুবই লজ্জাজনক।’

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মির্জা জাকির, নিহতের বড় ভাই মো. নঈমুদ্দিন খান, মো. নাছির উদ্দিন খান, ছোট ভাই মো. ফোরকান উদ্দিন খান, বড় জামাতা আরিফুর খান, বড় মেয়ে ফারজানা শাহীন পদ্ম, ছোট মেয়ে ফাতেমা শাহীন পুষ্প, চাচাতো ভাই মানিক খান, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বেবি, বড় ভাইয়ের স্ত্রী শামসুন্নাহার আক্তার, বড় ভাইয়ের ছেলে ইফতেখার আহমেদ, বড় ভাইয়ের মেয়ে রোবেনা সুলতানা।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন চাঁদপুর শহরের পাকা মসজিদ এলাকার নিজ বাস ভবনের একটি কক্ষ থেকে গল্লাক ডিগ্রি আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের স্ত্রী শাহীন সুলতানা ফেন্সির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফোরকান খান ফেন্সির স্বামী অ্যাডভোকেট জহির ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীসহ চার জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর অ্যাডভোকেট জহির ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখাকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। পরে আদালত অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে এবং  জুলেখাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অ্যাড. জহিরের প্রেসার বেশি হওয়ার কারণে তাকে রিমাণ্ডে নেওয়া যাচ্ছে না।