অভিযুক্ত এই দুই চিকিৎসক হলেন, ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব। এ দুই চিকিৎসক ওই দিন ম্যাক্স হাসাপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কতর্ব্যরত ছিলেন।
লিয়াকত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অবহেলায় সাংবাদিক কন্যা রাইফার মৃত্যু হয়েছে এই অভিযোগ উঠায় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই চিকিৎসককে রোগী সেবা থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা দেই। ওই দিন থেকে তারা রোগীর সেবা থেকে বিরত রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখনও তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়নি। হাসপাতালের পক্ষ থেকে আমরা অভ্যন্তরীন একটা তদন্ত কমিটি করেছি। তারা একটা প্রতিবেদন দিয়েছেন, ওই প্রতিবেদন নিয়ে আমরা আজ (০৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় বসবো। বৈঠকে তাদের চাকরিচ্যুতি করার বিষয়টি আলোচনা হবে।’
লিয়াকত আলী খান বলেন,‘কাউকে চাকুরিচ্যুত করতে হলে তাকে আত্মসমর্থন করার সুযোগ দিতে হয়। বিকেলের বৈঠকে আমরা অভিযুক্ত দুই চিকিৎসককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিব। তারপর তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে গত ২৮ জুন বিকেলে গলা ব্যাথার কারণে রাফিদা খান রাইফাকে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ২৯ জুন রাতে রাইফার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে রাইফার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। এই ঘটনায় ওই দিন রাতে ম্যাক্স হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্ত কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের শাস্তি দাবি করেন সাংবাদিক নেতারা। এসময় সাংবাদিক নেতাদের দাবি মুখে পুলিশ কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে বিএমএ নেতাদের চাপের মুখে ওই রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে দুই পক্ষের সমঝোতায় ঘটনার তদন্তে ওই রাতেই সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার (০৫ জুলাই) রাতে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন।