মিরসরাই ট্র্যাজেডি: আবুতোরাব স্কুলকে সরকারিকরণের আশ্বাস গণপূর্তমন্ত্রীর

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনমিরসরাই ট্র্যাজেডির ঘটনায় আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়কে অচিরেই সরকারিকরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘মিরসরাই ট্র্যাজেডির ঘটনায় আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের দাবি উঠেছিল। বিষয়টি সরকারের নজরে আছে। নতুন করে উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণের ঘোষণা এলে প্রথমে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হবে।’
বুধবার (১১ জুলাই) দুপুরে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় মন্ত্রী এই আশ্বাস দিয়েছেন। মিরসরাই ট্র্যাজেডির সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মিরসরাই ট্র্যাজেডি শুধু মিরসরাইবাসীর জন্য শোকগাঁথা নয়, একটি দুর্ঘটনায় একসঙ্গে ৪৫ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছিল। ওই ঘটনায় এই আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ছুটে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই শোকের স্মৃতি এতটুকু মুছে যায়নি। মিরসরাই ট্র্যাজেডির সেই হৃদয়স্পর্শী ঘটনা আজও এলাকাবাসীর মনকে ব্যথিত করে।’
এর আগে মিরসরাই ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টায় একটি শোক র্যা লি বের করা হয়। র্যা লিতে নিহত ছাত্রদের স্বজন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষকবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে নিহত ছাত্রদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ ও ‘অন্তিম’-এ ফুল দেওয়া হয়। এরপর আবুতোরাম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয় স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এম আলা উদ্দিনের সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রুহেল, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য শেখ আতাউর রহমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসিমন শাহীন কাকলী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কায়সার খসরুসহ অনেকে।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, ‘দুর্ঘটনাস্থলে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ অন্তিমের সামনে গেলে আজও মানুষ থমকে দাঁড়ায়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেই ভয়ালক্ষণটিকে স্মরণ করে। মনে করার চেষ্টা করে তার চেনা মুখগুলোকে। যেখানে নিমিষেই হারিয়ে গেছে ৪৫টি তরতাজা প্রাণ।’
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১১ জুলাই দুপুরে মিরসরাই সদরের স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা দেখে ট্রাকে করে বাড়ি ফেরার পথে বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের তেতুলতলা নামক স্থানে সড়কের পাশের ডোবায় পড়ে ৪২ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৪৫ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা।