পায়েল হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত হানিফ পরিবহন বয়কটের দাবি

01নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েল হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত হানিফ পরিবহন বয়কটের দাবি জানিয়েছে নিহতের স্বজন, প্রতিবেশী ও হালিশহর এলাকার বাসিন্দারা। শুক্রবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা। মানববন্ধনে তারা ঘাতক ড্রাইভার, হেলপার ও সুপারভাইজারের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিল সন্দ্বীপবাসী, হালিশহর এলাকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, তার সহপাঠী, প্রতিবেশী এবং স্বজনরা।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পায়েলের মামা কামরুজ্জামান চৌধুরী টিটু। সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে এতে তার মেঝো মামা গোলাম সহরাওয়ার্দী বিপ্লব, ছোট মামা বাহার চৌধুরী শিপন, দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর প্রধান সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক সারওয়ার হাসান জামিল, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রুমানা নাসরিনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, ‘পায়েলকে যদি ওই সময় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতো তাহলে আজ আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হতো না। আমরা চাই না এভাবে আমাদের আর কোনও স্বজনের মৃত্যু হোক। আমরা মানুষরূপী পায়েলের হত্যাকারী ওই নরপশুদের ফাঁসি চাই।’

02

এসময় বক্তব্য রাখেন পায়েলের বন্ধু রাহাত ও সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের তার ব্যাচমেট সাহেদুল আলম । রাহাত বলেন, ‘পায়েল শুধু আমার বন্ধুই নয়, ভাইয়ের চেয়েও বেশি। যতদিন পর্যন্ত পায়েলের খুনিদের ফাঁসি না হবে ততদিন আমরা রাস্তায় আন্দোলন করে যাবো।’

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম থেকে বন্ধুর সঙ্গে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন পায়েল। পুলিশ সূত্র জানায়, পথে রাত ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় গিয়ে যানজটে পড়ে বাসটি। এসময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাস থেকে নিচে নামেন পায়েল। এরপর থেকে আর পায়েলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ২৩ জুলাই সকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর খাল থেকে পায়েলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।