সমর চৌধুরীকে গ্রেফতারের ঘটনায় আরেক পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

সমর চৌধুরীকে এভাবে অস্ত্র দিয়ে মিডিয়ার সামনে আনা হয়চট্টগ্রামে ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে সমর চৌধুরীকে গ্রেফতারের ঘটনায় আরও এক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার (১১ আগস্ট) অভিযুক্ত উপপুলিশ পরিদর্শক আতিক উল্লাহকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই ঘটনায় ১৯ জুলাই আরেক পুলিশ কর্মকর্তা বোয়ালখালী থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়।

পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সমর চৌধুরীকে গ্রেফতারের ঘটনার পাশাপাশি এস আই আতিক উল্লাহ’র নামে আরও কিছু অভিযোগ ছিল। এসব কারণে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে সমর চৌধুরীর ঘটনাটি অন্যতম বলে তিনি জানান।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার এসআই আতিককে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়। পরদিন শুক্রবার থাকায় ওই আদেশ শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে।’

এর আগে গত ২৭ মে রাতে বোয়ালখালী থানা পুলিশ সমর চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় সমর চৌধুরীর কাছ থেকে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ দাবি করে। তবে সমর চৌধুরীর পরিবার দাবি করে, এক প্রতিবেশীর প্ররোচনায় পুলিশ সমর চৌধুরীকে ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়েছেন।

সমর চৌধুরীকে আটকের পর তার মেয়ে অলকানন্দ বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, ২৭ মে আদালতের কাজ সেরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসায় ফেরার সময় নগরীর জহুর হর্কাস মার্কেটের সামনে সাদা পোশাকধারী কিছু সংক্ষক পুলিশ সদস্য বাবাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। মাইক্রোবাসে তুলে পুলিশ সদস্যরা কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে তাকে বোয়ালখালীর চরণদ্বীপ খালের পাশে নিয়ে যায়। মাইক্রোবাসে পুলিশ সদস্যদের কথোপকথন থেকে তিনি বুঝতে পারেন তাকে ক্রসফায়ারে দেওয়ার জন্য সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ওখানে যাওয়ামাত্র পুলিশের কাছে দুই-তিনটি ফোন আসে। এরপর পুলিশ ওখান থেকে মাইক্রোবাস ঘুরিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আগে থেকে ঘরে রেখে দেওয়া অস্ত্র ও ইয়াবা দিয়ে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

অলকানন্দ চৌধুরী আরও জানান, জায়গা-জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় বাবা আমাদের এলাকার প্রতিবেশী স্বপন দাশকে সহযোগিতা করায় তার ভাতিজা সঞ্জয় দাশ পুলিশকে দিয়ে বাবাকে ফাঁসান।

এ ঘটনায় পুলিশ তার নামে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। গত ২৪ জুন সমর চৌধুরী মাদকের মামলায় জামিন পান। এরপর গত ১০ জুলাই অস্ত্র মামলায় জামিন পাওয়ার পর ১২ জুলাই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পান।