বাঘাইছড়ি-বিলাইছড়িতে আট খুন, রাঙামাটিতে আ.লীগের বিক্ষোভ

রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল

বাঘাইছড়িতে সাত খুন ও বিলাইছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাঙামাটি আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।

বুধবার সকালে রাঙামাটি পৌরসভা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে এ বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন। এতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নিখিল কুমার চাকমা, চিং কিউ রোয়াজা ও অংসু প্রু চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীসহ অন্য নেতারা।

এসময় বক্তারা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা এসব ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফকে দায়ী করে বলেন,‘পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান পরিচালনা করে এসব অস্ত্রধারীদের নির্মূল করতে হবে।’

পাহাড়ে আর কোনও রক্ত দেখতে চাই না উল্লেখ করে বক্তারা বলেন,‘বার বার আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর হামলা করে পার পেয়ে যাচ্ছে জনসংহতি সমিতি।’ আর কোনও ভাবেই তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে  হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন,‘প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করে বলেন আমরা যারা পার্বত্য এলাকায় বসবাস করি তারা প্রত্যেকে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। সারাদেশে জঙ্গিদের আপনি দমন করেছেন, তাহলে পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব নয় কেন? পাহাড়ে গুটি কয়েক সন্ত্রাসীর কাছে পুরো পার্বত্য এলাকার মানুষ জিম্মি।’

কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসু প্রু চৌধুরী বলেন,‘সন্তু লারমার দল জেএসএস এর কাছে পাহাড়ে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। পার্বত্যবাসী এই জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হতে চায়। তারা আর খুন-সন্ত্রাস চায় না।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি পার্বত্য এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য আবেদন করছি। না হলে পার্বত্য এলাকায়  আমরা যারা আওয়ামী লীগের কর্মী তারা সবাই একসঙ্গে পদত্যাগ করবো। পাহাড়ে হয় সন্তু লারমা থাকবে, না হয় আওয়ামী লীগ থাকবে। ‘

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন,‘আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা, আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর গভীর আস্থা ও বিশ্বাস আছে বলেই আমরা আরও কিছু সময় দিতে চাই। এই সময়ের মধ্যে যদি বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতে যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তাদের আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে আমরা হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিব।’

তিনি আরও বলেন,‘পাহাড়ে যতদিন অবৈধ অস্ত্র থাকবে ততদিন পাহাড়ে শান্তি ফিরবে না। তাই জরুরি ভিত্তিতে এইসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’