শ্যালককে হত্যার অভিযোগে দুলাভাইসহ দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লাকুমিল্লার লাকসামে পরকীয়ার জেরে শ্যালককে হত্যার অভিযোগে দুলাভাই মো. মিজানুর রহমান (৩৪) ও তার প্রেমিকা সুমি আক্তার চুমকিকে (১৮) আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) নিহতের বাবা দুলাল মিয়া বাদী হয়ে লাকসাম থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে লাকসাম থানা পুলিশ অভিযুক্ত ওই দুইজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান ও তার প্রেমিকা চুমকি সোমবার সিলেট থেকে লাকসাম রেলওয়ে জংশনে এসে নামে। এ সময় মিজানুরের শ্যালক শামীম হোসেন সুমন, তার বন্ধু ইমরান হোসেন ও নাজমুস শাহাদাত নাঈম তাদের দেখে ফেলে। ওই সময় মিজানুর তাদেরকে বুঝিয়ে একইসঙ্গে একটি সিএনজি অটোরিকশায় বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা করে। পথিমধ্যে উপজেলার পৌলাইয়া নামক স্থানে এসে পৌঁছালে মিজানুর ও চুমকি তাদের সাথে থাকা ছুরি বের করে সবাইকে জিম্মি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাকে বাধা দিতে গেলে মিজানুর তাদের এলাপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে সুমন ও এমরান গুরুতর আহত হন।

পরে তাদেরকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে নেওয়ার পথে সুমন মারা যান। এমরানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। পরে স্থানীয় লোকজন মিজানুর ও চুমকিকে আটক করে লাকসাম থানা পুলিশকে খবর দেয়।

জানা যায়, লাকসাম সদরের গাজীমুড়া গ্রামের মিজানুর পাশ্ববর্তী মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামের নুরজাহানকে বিয়ে করে। জাহিদুর পেশায় অটোরিকশা চালক। তাদের সংসারে ১২ বছরের একটি সন্তানও রয়েছে। চুমকির বাড়ি শ্রীমঙ্গল উপজেলার শাপলাবাগ গ্রামে। সে লাকসামের ওই গ্রামে নানার বাড়িতে বসবাস করতো। শ্বশুরবাড়ি আসা-যাওয়ার সময় চুমকির সঙ্গে পরিচয় হয় মিজানের। পরবর্তীতে পরকীয়ায় প্রেমে জড়িয়ে পড়ে তারা। এনিয়ে ওই গ্রামে বেশ কয়েকবার সালিশ দরবারও হয়েছিল।

লাকসাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে লাকসাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার মিজান ও চুমকিকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।