ফণীর আঘাতে ফেনীর নিঃস্ব পরিবারগুলোর সহায়তা মেলেনি

ঘরবাড়ি হারিয়ে মাথাই হাত দিয়ে বসে এক নারীঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় অনেকে পরিবার বসতঘর ও ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। মানবেতর জীবন যাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের অভিযোগ, ঝড়ে সব হারানোর পরও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের কোনও সহায়তা দেওয়া হয়নি। তবে দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাহায্য দেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চরখন্দকার জেলেপাড়ার বাসিন্দা মনোরঞ্জন জল দাসের ছেলে হর মোহন জল দাসের বসবাস নদীপাড়ে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন তিনি। তার মতো অনেকেই সব হারিয়ে এখন নির্বাক। দক্ষিণ চরচান্দিয়া ধান গবেষণা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বসতঘর হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিনযাপন করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত রুচিয়া খাতুন, আবু সুফিয়ান, বেলাল হোসেন, মো. মোস্তফা, লাইলী আক্তার, বেবি আক্তার, রিয়াজউল হক, জান্নাতুর লাহের, আনিছুল হকের অভিযোগ— ঘূর্ণিঝড়ের দিন ও পরে ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও প্রশাসনের লোকজন কোনও খোঁজখবর নেয়নি। ঝড়ের দিন জোর করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হলেও কোনও ধরনের খাবার দেওয়া হয়নি।

ফনীতে ভেঙে গেছে ঘরবাড়িতবে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান তাদের এসব অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ঝড়ের দিন আমরা যথাসাধ্য শক্তি সার্মথ্য নিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। এখনও আছি। আমরা সল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুতই তাদের সহযোগিতা করা হবে।’

এ ব্যাপারে চরচান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে তালিকা করে তা উপজেলা প্রশাসনের কাছে দিয়েছি। উপজেলা ও জেলা প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পাবেন।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৪ মে) সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতসহ প্রচণ্ড গতিবেগে ঘূর্ণিঝড় ফণী ফেনীসহ আশপাশের এলাকায় আঘাত হানে। এ সময় ফেনীর সোনাগাজির প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। উড়ে যায় ঘরের চাল ও বেড়াসহ আসবাবপত্র। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফলজ বৃক্ষ, ফসলের মাঠ।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য বলছে, এ ঝড়ে পুরো জেলায় ৭টি বসতঘর পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৬৭টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া এলাকায় পড়ে। ঝড়ে ১০৪ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছয় উপজেলায় ১৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে ও ৫০-৬০ স্থানে তার ছিঁড়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল।