মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, বিপাকে ব্যবসায়ীরা




পশু আমদানিদেশীয় খামারিদের লাভের জন্য এবার মিয়ানমার দিয়ে গবাদি পশু আমদানি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এতে দেশীয় খামারিরা কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশু বিক্রি করে ভালো লাভ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বেশ বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে মিয়ানমারের গবাদি পশু আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান।

তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্দশনা অনুযায়ী মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনোভাবেই মিয়ানমার থেকে গরু-মহিষ আমদানি করা হবে না। পরবর্তী নিদের্শনা না আসার পর্যন্ত, এই অবস্থা চলমান থাকবে। কেউ এ নির্দেশ অমান্য করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে বিজিবি ও শুল্ক স্টেশনকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সর্বশেষ চলতি আগস্ট মাসের প্রথম দুই দিনে মিয়ানমার থেকে ২ হাজার ৬২৮টি পশু শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে আসে। আমদানিকৃত পশু থেকে ১৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এছাড়া জুলাই মাসে ১০ হাজার ৯৫টি পশু আসে। সদ্যসমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৫ হাজার ৫২১টি গরু এই করিডর দিয়ে নিয়ে আসা হয়। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৭টি পশু আসে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৬ হাজার ৯৩৬টি পশু আমদানি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

টেকনাফ উপজেলার পশু আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সৈয়দ বলেন, সামনে কোরবানি, হঠাৎ করে মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু বন্ধের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের শত কোটি টাকার লোকসান পোহাতে হবে। কারণ মিয়ানমারে পশু ব্যবসায়ীদের শত শত কোটি টাকা দাদন দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া কোরবানিকে সামনে রেখে সেদেশে অনেক পশু মজুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পশু বোঝাই কিছু ট্রলার আসার পথে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের লোকসানের কথা ভেবে পশু আমদানি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

তবে পশু আমদানি নিষিদ্ধের বিষয়ে জানেন না টেকনাফের বিজিবি-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়সল হাসান খান। তিনি জানান, মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধের নির্দেশনা এখনও পাইনি। আমি যতটুকু জানি সাগর উত্তালের কারণে পশু আসা বন্ধ রয়েছে।

একই ধরনের মন্তব্য করেন টেকনাফ শুল্ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ময়েজ উদ্দীন। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বিষয়ে কোনও নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা হাতে পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

প্রসঙ্গত, টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোরটি শুল্ক স্টেশনের আওতাধীন জোন। ২০০৩ সালে ২৫ মে মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে গবাদিপশু আসা রোধে বিজিবির চৌকি-সংলগ্ন এলাকায় এ করিডোরটি চালু করা হয়। আমদানি করা গবাদিপশু প্রথমে বিজিবির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। পরে সোনালী ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে রাজস্ব জমা এবং স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের অনুমতি নিয়ে গবাদিপশুগুলোর ছাড়পত্র নেওয়া হয়।