চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ

মারধরের শিকার রবিউল ইসলাম

শপথ গ্রহণের একদিন পর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে চোর আখ্যা দিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তবে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আহসান জানিয়েছেন কিছু লোক রবিউল ইসলামকে মারধর করার সময় পুলিশ তাকে উদ্ধার।

নির্যাতনের শিকার রবিউল ইসলাম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (সিংহ প্রতীক) নির্বাচন করেছিলেন। তিনি কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামের মো. আলম হোসাইনের ছেলে।

রবিউল ইসলাম জানান, কুমিল্লার তিতাস উপজেলা পরিষদের সামনে ১ শ’ ৭২ শতাংশ জমি নিয়ে খেলার মাঠ রয়েছে। ওই মাঠের এক পাশে একটি শহীদ মিনার ছিল। চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শহীদ মিনারটি ভেঙে এবং খেলার মাঠটি দখল করে হাউজিং প্রকল্প করার চেষ্টা করেন। তিনি মাঠ রক্ষায় প্রতিবাদে পারভেজ হোসেনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে একটি মামলা করেন। কিন্তু মামলাটি খারিজ করে দেয় আদালত। পরে হাইকোর্টে মামলা করলে ২০১৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত খেলার মাঠের পক্ষে রায় দেয়। এই রায়ের বিপরীতে আসামি পক্ষ সুপ্রিমকোর্টে আপিল করলে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে সুপ্রিমকোর্টও মাঠের পক্ষে রায় দেয়। এরপরও পারভেজ হোসেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজসে শহীদ মিনারটি ভেঙে মাঠটি দখল করে। বিষয়টি কুমিল্লা জেলা প্রশাসককে জানানো হলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মাঠটি ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দেন। গত বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) তিনি মাঠের বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। এ সময় পারভেজ হোসেন সরকার তার কর্মীদের দিয়ে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর ও নির্যাতন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। 

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আহসান জানান, মামলার বাদী হওয়ার অপরাধে এবং সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে কিছু লোক মারধর করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। কিন্তু ওই ঘটনায় আমরা এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি।  

রবিউল ইসলামের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যানের মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।