প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- ঢাকার গুলশানের এখলাস ট্রেডিং এবং চট্টগ্রাম নগরীর নুর আহমেদ সড়কে অবস্থিত মেসার্স লাকী ট্রেডিং।
আসামিরা হলেন- এখলাস ট্রেডিংয়ের মালিক কাজী জাহিদুল ইসলাম (৩০), সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান তানজিনা ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. আলমগীর সরকার (৪৩), মেসার্স লাকী ট্রেডিংয়ের মালিক মো. ইউসুফ চৌধুরী (৬৭), সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান মেসার্স এইচ কে অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান তাহেরা আক্তার মরিয়ম (৪০), একই প্রতিষ্ঠানের এমডি মো. শহীদ উল্লাহ (৪৬), একই প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম (৪৬) ও মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ (৪৭)। আসামিদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এবং কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯ ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
নুর উদ্দিন মিলন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখলাস ট্রেডিং ১০ হাজার ৮২০ কেজি আঠাযুক্ত সিল ঘোষণা দিয়ে একটি চালান আমদানি করে। আমদানি পণ্য খালাসের জন্য সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তানজিনা ইন্টারন্যাশনাল ১৮ ডিসেম্বর বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। নিয়ম অনুযায়ী আমদানি পণ্য যাবতীয় শুল্কায়ন কাজ শেষে আনস্টাফিং কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষার পর সেগুলো খালাস করে। কিন্তু, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক যোগসাজশের মাধ্যমে আনস্টাফিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে চালানটি বন্দর থেকে বের করে নিয়ে যান। পরে গোপন সংবাদ পেয়ে কাস্টমসের এআইআর শাখার কর্মকর্তারা টোল প্লাজা থেকে পণ্য ভর্তি কাভার্ডভ্যানটি আটক করে। পরে তাতে কায়িক পরীক্ষা করে কাভার্ডভ্যানে ঘোষিত পণ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। উল্টো তাতে উচ্চ শুল্কের প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ২৫ ডিসেম্বর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. দারাশিকো আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।’
অন্যদিকে লাকী ট্রেডিং ঘোষিত পণ্য না এনে খালি কন্টেইনার আনার মাধ্যমে টাকা পাচার করেছে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে নুর উদ্দিন মিলন বলেন, ‘লাকী ট্রেডিং ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮৫ কেজি পাকা বীজ আমদানির জন্য ৪ লাখ ১২ হাজার ৩৪৭ ডলারের একটি এলসি খোলে। এলসি অনুযায়ী রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকাও পাঠায়। চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। কিন্তু, কায়িক পরীক্ষার সময় চালানটির ৪৩টি কন্টেইনারে ঘোষণার মাত্র ১০ দশমিক ৭ শতাংশ পণ্য পাওয়া যায়। পরে ঘটনার তদন্তে আমদানি না করা সত্বেও রফতানিকারককে অর্থ পরিশোধ করে অর্থ পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ প্রতীয়মান হয়।’