আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী যাতায়াত করেন। সেই তুলনায় পুরনো ইমিগ্রেশন ভবনটি ছোট ও অবকাঠামোর অবস্থা নাজুক। প্রায়ই সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। এজন্যই আধুনিক ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
২০১৬ সালে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস বিজনেজ সিন্ডিকেট ইন্টারন্যাশনাল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক গিয়াস উদ্দিন জানান, ভবন নির্মাণের সব সামগ্রী আনার পর বিএসএফের আপত্তির কারণে ২০১৭ সালের মার্চ থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। এর আগেও তাদের জন্য একবার নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়। প্রায় তিন বছরবন্ধ থাকার পর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার তত্ত্বাবধানে গত বছরের সেপ্টেম্বরে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পাইলিংয়ের কাজ চলার মধ্যেই নকশা নিয়ে ফের আপত্তি তোলে বিএসএফ। বিজিবিকে দেওয়া চিঠিতে বিএসএফ জানায়, ৩৫ ফুটের বেশি উচ্চতার ভবন করা যাবে না। ফলে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে তৃতীয় দফাল কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এরই মধ্যে এই কাজের পেছনে দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের দরে ২০১৬ সালের দরপত্রে কাজটি আমরা পেয়েছি। ২০২০ সালে ২০১৪ সালের দরে আমাদের কাজটি করতে হচ্ছে। শ্রমিক খরচসহ নির্মাণের বিভিন্ন সামগ্রীর দাম বেড়েছে। কাজটি করতে গিয়ে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, বিএসএফের পক্ষ থেকে ভবনের উচ্চতা নিয়ে আপত্তি আসে। ৩৫ ফুট উচ্চতার বেশি সীমান্ত অঞ্চলে বহুতল ভবন নির্মাণ করা যাবে না বলে বিজিবির মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা বিষয়টি পুলিশের হেড কোয়ার্টারে জানিয়েছি। সেখান থেকে নতুন নকশা অনুমোদন হয়। গত এক সপ্তাহ আগে আমরা আমাদের নতুন নকশা বিজিবিকে বুঝিয়ে দিয়েছি। তারা হয়তো পরবর্তী পতাকা বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করবেন এবং চলমান সমস্যা সমাধান করবেন বলে আশা করছি।
বিজিবি সরাইল ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্নেল মুহাম্মদ গোলাম কবির বলেন, ‘নতুন ভবনের নির্মাণে বিএসএফ আমাদের কাছে আপত্তি জানানোর পর তা পুলিশকে জানাই। পাশাপাশি আমারা আমাদের সদর দফতরকে অবহিত করি। পরে ভবনের নতুন নকশা আমাদেরকে দেওয়া হয়ছে। আগামী পতাকা বৈঠকে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সুরাহা করবো। এরপরই ইমিগ্রেশন ভবনের কাজ শুরু হবে।’