ডিজি ও অতিরিক্ত সচিব হান্নান মিয়া বলেন, ‘যারা এ ভুল এবং লেপছেপ দেওয়ার কাজ করলেন তাদের সবাইকে জবাব দিতে হবে। যা হয়েছে তা অনভিজ্ঞতা, উদাসীনতা ও অবিবেচকের কাজ। জেনেশুনে সরকারি টাকা জলে ফেলা হচ্ছে। তার চেয়ে কষ্টের বিষয় হলো প্রাচীন নিদর্শনের জাপরি ইটগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমরা যদি সময়মতো না আসতাম, তাহলে বোধ হয় মূল মসজিদই পেতাম না।’
মসজিদটির একটি পুরনো ইটও যেন খোলা না হয় এবং যে ২ নম্বরি দেশীয় ইট দিয়ে মসজিদের গাইড ওয়াল তৈরি করা হয়েছে তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন ডিজি। তিনি বলেছেন, ‘নতুন দেয়াল পুরোটা ভেঙে ফেলতে হবে। নতুন করে কাজ করতে হলে আমায় বলে করতে হবে। আমিই প্রয়োজনে এ কাজের প্রধান তদারক হিসেবে থাকবো।’
স্থানীয় আবু বকর তালুকদারের বাড়ির পাশেই মসজিদটি। তিনি বলেন, ‘দিন কয়েক আগে বিকট শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে দেখি কিছু লোক মসজিদের দেয়াল থেকে পুরনো ইটগুলো ফেলে দিচ্ছে। আমি তাদের ইট ভাঙতে নিষেধ করি। কিন্তু আমার কথা তো শোনেনি বরং সেখানে থেকে আমাকে তাড়িয়ে দেয়।’
স্থানীয় চেয়ারম্যান আল মামুন ডিজিকে বলেন, কাজটি কবে শুরু করা হয়েছে তা তাকে জানানো হয়নি। অথচ তার কার্যালয় থেকে মসজিদের দূরত্ব মাত্র ১০০ গজ।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের শেষের দিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি একটি বই পড়ে সুলতানি আমলের মসজিদটির কথা জানতে পারেন। বিষয়টি এলাকার চেয়ারম্যানকে খোঁজ নিতে বলেন। চেয়ারম্যান খোঁজ নিতে গেলে স্থানীয় আজিজুর রহমান জানান, শেকড়ে মোড়ানো মসজিদটি তিনি দেখেছেন। ঘন ঝোপঝাড়ের কারণে মসজিদটি দৃশ্যমান করতে পারেননি। সেসময় চেয়ারম্যান শ্রমিক লাগিয়ে মসজিদটি উদ্ধার করেন। পরে প্রত্নতাত্ত্বিকরা মসজিদটি সুলতানি আমলের বলে শনাক্ত করেন। এরপর দীপু মনি মসজিদটি সংরক্ষণ ও ওই স্থানটিকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। গত বছরই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এটিকে প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে গেজেটভুক্ত করে সংরক্ষণের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়।