সওজ’র কাজের ধীরগতির কারণে কুমিল্লার দেবিদ্বারের চরবাকর থেকে মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ, বুড়িচংয়ের কংশনগর বাজার ও দেবপুর এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভেঙে ভেঙে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর থেকে সড়ক সংস্কারের কাজের কারণে নাকাল হয়ে পড়েছে সড়ক দিয়ে চলাচল করা মানুষের জনজীবন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ ও দেবিদ্বার এলাকার তীব্র যানজটের কারণে নারী, শিশুসহ যাত্রীরা মহাদুর্ভোগে পড়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ কাজেও অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না অনেকেই। মহাসড়কের এই দুর্ভোগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে সর্বসাধারণ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ময়নামতি থেকে মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজার ব্রিজ পর্যন্ত হালকা ও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচলে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে বিকল্প সড়ক তৈরি করেনি। এছাড়া সড়কের দু’পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সওজ’র জায়গায় গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা, দৈনিক বাজার, সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড না সরিয়ে, একপাশ সম্পূর্ণ বন্ধ করে সড়ক সংস্কার কাজ করায় এই জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
মুরাদনগর ন্যাশনাল সার্ভে অ্যান্ড ডিজাইন কনসালটেন্টের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব মোরশেদ ভূঁইয়া বলেন, বিকল্প সড়ক তৈরি, সড়কের দু’পাশের জায়গা উদ্ধার এবং সড়কের ওপর থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো না সরিয়ে সড়ক সংস্কারের কাজ ধরা ঠিক হয়নি।
ফারজানা ও নিউ জনতার বাসের সুপারভাইজার আবুল হাশেম জানান, যানজটের কারণে যাত্রীরা কষ্ট পাচ্ছে। আমাদের কিছুই করার নেই, বসে থাকা ছাড়া। রাস্তার তৈরি কাজে শৃঙ্খলা নেই।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘যদিও সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। জনদুর্ভোগের বিষয় বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংস্কার কাজটি দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানিয়েছি।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদউল্লাহ বলেন, ‘জনদুর্ভোগ বিবেচনা মাথায় রেখেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বলেছি যেন তিন মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে। কাজে আমাদের কোনও গাফিলতি নেই।’