ফুরোমন পাহাড়ে পথ হারিয়ে ৯৯৯-এ কল, ৬ পর্যটক উদ্ধার

রাঙামাটিতে পাহাড়ে অ্যাডভেঞ্চারে করতে এসে রাতের আঁধারে পথ হারিয়ে ফেলে চার শিক্ষার্থীসহ ৬ পর্যটক। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে সহায়তা চাইলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ তৎপরতায় তাদেরকে পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটে।

উদ্ধারকৃতরা হলেন, কুমিল্লার আব্দুল্লাহ হক (২৭) মো. নাজমুল হাসান (২৪), রাজশাহীর নাইমুর রহমান (২৪), ঢাকার সাজ্জাদ ওয়াসিফ খান (২৩) ইজাজ ইবনে ইমন (২১), ও লক্ষ্মীপুরের রেদোয়ান আহমেদ (২৪)। এদের মধ্যে চারজন ঢাকার আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বাকি দুইজন সম্প্রতি পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা করছেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী রাঙামাটি ঘুরতে এসে ফুরোমোন পাহাড়ে আরোহণ করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অ্যাডভেঞ্চার, তাই তারা তাদের সঙ্গে কিছু খাবার নিয়ে পাহাড়ে উঠে। তাদের ধারণা ছিল পাহাড়ের ওপরে কোথাও তাদের খাওয়ার ও থাকার জায়গা হবে। সারাদিন কাটানোর পর সন্ধ্যার পরও তারা পাহাড়েই অবস্থান করছিল। পরে পাহাড় থেকে ফেরার পথে তারা আর রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিল না। নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তারা কারও সহযোগিতাও নিতে পারছিল না। পরে তারা নেটওয়ার্কে এলে ৯৯৯ কল দিয়ে সহযোগিতা চায়। পুলিশ সদর দফতর থেকে রাঙামাটিতে যোগাযোগ করা হয়। তারা যে নম্বর থেকে ৯৯৯-এ কল দিয়েছিল, পুলিশ সে নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আবারও নেটওয়ার্ক না থাকায় তারা যোগাযোগের আওতায় ছিল না। ফলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করতে পারছিল না। পরে রাত ১০টার দিকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। এসময় তাদের কথা শুনে তাদেরকে পাহাড়ের ওপরে বৌদ্ধবিহারের আশপাশে অবস্থান নিতে বলে পুলিশ। পরে ফুরোমোন পাহাড়ের ওপরে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে বিহারের পাশ থেকে রাত ১১টায় তাদের উদ্ধার করে। সেখান থেকে তাদের সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে রাতে অবস্থান করতে দেওয়া হয়। সকালে তাদেরকে ফুরোমোন পাহাড় থেকে রাঙামাটিতে নিয়ে আসা হয়। পরে পুলিশ সদর দফতরের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, রাতে সদর দফতর থেকে কল পাওয়ার পর পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছয় শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে ফুরোমোন পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানেই রাত্রিযাপন শেষে সকালে তাদেরকে থানায় নিয়ে আসার পর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারা সকলেই সুস্থ আছেন।