ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ধানি জমিতে কারেন্ট জাল দিয়ে বাবুই পাখি শিকার করছে একটি চক্র। এতে গ্রামীণ জনপদে দেশীয় প্রজাতির পাখি ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। জেলা বন বিভাগ বলছে, এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দাঁতমন্ডল গ্রামের জুরু মিয়ার ছেলে সামসু মিয়া এবং রজব আলীর ছেলে বাতেন মিয়ার নেতৃত্বে একটি চক্র এলাকার ধানি জমির উপর কারেন্ট জাল দিয়ে ফাঁদ বানিয়ে বাবুই পাখি শিকার করছে। প্রতিদিন এসব জমিতে আহার করতে এসে ঝাঁকে ঝাঁকে শিকারির ফাঁদে ধরা পড়ছে বাবুই পাখি। এসব পাখি ধরে এলাকায় বিক্রি করছে তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাঁতমন্ডল গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, অসাধু চক্রের সদস্যরা গত এক সপ্তাহ ধরে গ্রামের বিস্তীর্ণ ধানি জমির উপর মাছ শিকারের কারেন্ট জাল বিছিয়ে বাবুই পাখি শিকার করছে। পাশাপাশি ওই তারা গ্রামে গুজব ছড়িয়েছে যে, বাবুই পাখির মাংস খেলে বাত ব্যথা ভালো হয়। এমন গুজবকে কাজে লাগিয়ে পাখি শিকার করছে তারা। আর গ্রামের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে সরলতাকে কাজে লাগিয়ে পাখি বিক্রি করছে। তিনি এসব পাখি শিকারি চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম জানান, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। পাখি শিকার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বন বিভাগের রেঞ্জার মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, ফাঁদ পেতে বাবুই পাখি শিকার করা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী। কোনোভাবেই পাখি শিকার করতে দেওয়া হবে না। খোঁজ নিয়ে অসাধু বাবুই পাখি শিকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।