কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেকোনও ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও তা উপেক্ষা করে বাংলাদেশে আশ্রয়ের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে বিচ্ছিন্নভাবে মানববন্ধন করেছেন রোহিঙ্গারা। এছাড়া উখিয়া ও টেকনাফ ক্যাম্পের মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিলও করেছেন তারা। মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চার বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার (২৫ আগস্ট) এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। এদিকে, ক্যাম্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক রাখতে সেখানে নিয়োজিত রয়েছে বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
ক্যাম্পের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা সংকটের চার বছর পূর্তির দিন ফজরের নামাজের পর মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে রোহিঙ্গা শিশু ও নারীরা বিচ্ছিন্নভাবে সংক্ষিপ্ত মানববন্ধন করেছেন। তবে পুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও পুলিশ টহল জোরদার করেছে। ফলে আজ বুধবার সকাল থেকেই কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএন ছাড়াও জেলা পুলিশের সদস্য, র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তৎপর রয়েছে।
এদিকে, বুধবার সকালে ‘কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি’র ব্যানারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা জানান, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বসবাসের কারণে কক্সবাজারে স্থানীয়দের সঙ্গে নানা সংঘাত দেখা দিয়েছে। মাদক কারবার, হত্যা, অপহরণসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন রোহিঙ্গারা। কক্সবাজারে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে তাদেরকে এক জায়গায় নিয়ে আসা দরকার। তারা অবৈধভাবে পাসপোর্ট ও এনআইডি করেছে, সবগুলো বাতিল করতে হবে। রোহিঙ্গাদের মদদদাতা চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সমাবেশে দাবি জানান বক্তারা।
কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত জানান, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিসহ নিরাপত্তাজনিত কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সভা-সমাবেশের কোনও সুযোগ নেই। বর্তমানে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প শান্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও তীব্র নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী সময়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছিল। এর ঠিক দুই বছর পর ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ক্যাম্পে কয়েকলাখ রোহিঙ্গার সমাবেশের ঘটনায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর সরকার ক্যাম্পে যেকোনও ধরনের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।