গলা কেটে হত্যার পর কিশোরীকে ফেলে রাখা হয় পুকুরে

কুমিল্লার চান্দিনায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাতে ঘর থেকে তুলে নিয়ে কিশোরীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২ অক্টোবর) সকালে বাড়ি থেকে অদূরে এক পুকুর থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১ অক্টোবর) রাতে ঘরে একা পেয়ে কিশোরী সালমা আক্তারকে তুলে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

সালমা আক্তার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের সোলেমান ব্যাপারির মেয়ে। সোলেমানের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সালমা তৃতীয়। সে পাশের বিল্লাল বাজার কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বসন্তপুর গ্রামের ভূঁইয়াপাড়ার গরু ব্যবসায়ী সোলেমান ব্যাপারি ও তার ভাতিজাদের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছে। শনিবার সকালে একই বাড়ির জান্নাত নামের এক মেয়ে সোলেমান ব্যাপারির ঘরের দরজা ও পেছনের টিন খোলা দেখে ঘরে ঢুকেন। ওই ঘরে কাউকে দেখতে না পেয়ে সোলেমান ব্যাপারিকে ফোন দেন।

তিনি বাড়িতে এসে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে চারদিকে খোঁজ শুরু করেন। পরবর্তীতে বাড়ি থেকে ৫শ’ গজ দূরে একটি পুকুরে মেয়ের ভাসমান মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন।

সোলেমান ব্যাপারির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাতিজাদের সঙ্গে তার জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। গত শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তারা আমার স্ত্রীকে মারধর করায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। শুক্রবার আমি বাড়িতে গেলে তারা আমার ওপর হামলার চেষ্টা করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমি ঘর থেকে বের হলে তারা ১০-১২ জন লোক আমার ওপর হামলা করতে ঘিরে ফেলে। আমি প্রাণ ভয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রতিবেশী আব্দুর রহমানের বাড়িতে আশ্রয় নিই। এদিকে, ঘরে একাই ছিল আমার মেয়ে সালমা। রাতের অন্ধকারে তারা আমার মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ পানিতে ফেলে যায়।

চান্দিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে শনিবার সকালে একটি পুকুর থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তদন্ত করে খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।