রাঙামাটিতে পাহাড়ে আগাম আনারস চাষ বাড়ছে। পাহাড়ি টিলা ভূমিতে চাষ করা আনারস রসালো ও সুমিষ্ট হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। দেশের বিভিন্ন স্থানে এই আনারস পৌঁছে যাচ্ছে। এতে বেশি লাভের আশা দেখছেন চাষিরা।
স্থানীয় কৃষি অফিস বলছে, আধুনিক পদ্ধতি ও পরিমিত হরমোন ব্যবহারে মৌসুমের আগেই ফলন মিলছে। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে।
মৌসুম শুরুর বেশ আগেই বাজারে আসতে শুরু করেছে পাহাড়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক উৎপাদিত ফল আনারস। ‘হানিকুইন’ জাতের আনারস নানিয়ারচর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় জেলা শহরে নিয়ে আসছেন চাষিরা। বনরূপা সমতাঘাটে প্রতীক্ষায় থাকা পাইকারদের হাত হয়ে এই আনারস ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে।
সাধারণত জুন-জুলাই আনারসের মৌসুম হিসেবে পরিচিত। তবে গত কয়েক বছর ধরে পাহাড়ে আগাম আনারস চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।এই আনারস উৎপাদনের জন্য কৃষকরা ব্যবহার করছেন এক ধরনের হরমোন। মৌসুমে আনারস চাষে যেখানে চাষিদের লোকসান গুনতে হতো, সেখানে মৌসুমের বাইরে আগাম আনারস চাষে বাড়তি লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। তবে, ঘাটে আনারস সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি বলছেন ব্যবসায়ীরা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর রাঙামাটিতে দুই হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে আনারস আবাদ করা হয়েছে।
চাষিরা বলছেন, এখনও মৌসুম শুরু না হলেও আগাম ফলন আসা আনারস চাষ হচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরে এভাবে আনারস চাষ করছেন। এতে মৌসুমে উৎপাদিত আনারসের চেয়ে লাভবান হচ্ছেন তারা। কারণ মৌসুমি আনারস চাষ করে অনেক কৃষককেই লোকসানে গুনতে হয়।
এদিকে পাইকাররা বলছেন, করোনাকালে লেবু জাতীয় ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগাম আনারসের ভালো চাহিদা থাকবে।
নানিয়ারচর উপজেলার হাতিমারা এলাকায় ২০ হাজার আনারসের চারা তৈরি করেছেন মঙ্গল চাকমা। গত বুধবার সাপ্তাহিক হাটে তিন হাজার আনারস আনেন। প্রকারভেদে প্রতিটি আনারস বিক্রি করেছেন ৯ থেকে ১৭ টাকা দরে।
মঙ্গল চাকমা বলেন, ‘মৌসুমে আনারসের ভালো দাম পাই না। তাই এখন আগাম চাষ করি।’
সদর উপজেলার সাপছড়ি এলাকার আনারস বাগানি বিমল চাকমা বলেন, ‘এই বছর ৯ হাজার আনারস চাষ করেছি। সাপ্তাহিক হাটের দিন বাজারে ৮-১০ টাকা দরে মাঝারি ও বড় আকারের আনারস বিক্রি হচ্ছে।’
পাইকারি মৌসুমী ফল ব্যবসায়ী ইয়াছিন আলী জানান, ‘বাজারে ফলের সরবরাহ কম থাকায় আনারসের দামও বেশি। আগাম আনারস হওয়ায় মৌসুমের চেয়ে এখন দামে কিনতে হচ্ছে। মৌসুমে প্রতি পিস ৪-৫ টাকা কিনলেও এখন কিনতে হচ্ছে ৮-৯ টাকা দরে। আমরা এগুলো ১২-১৩ টাকা দরে বিক্রি করি।’
গত বুধবার সকালে রাঙামাটির বনরূপা বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে খুচরা বাজারে প্রতি জোড়া মাঝারি আকারের আনারস বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা দরে। বড় আকারের আনারস বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা জোড়া।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তপন কুমার পাল বলেন, মৌসুমে আনারসের ব্যাপক ফলন হওয়ার অনেকে বাড়তি লাভের আশায় কয়েক বছর ধরে আগাম চাষে ঝুঁকছেন। এই আগাম চাষে এক প্রকার হরমোন ব্যবহার করা হয়। হরমোন সঠিক সময়ে পরিমিত ব্যবহার করলে মানবদেহের কোনও ক্ষতি হয়না।