ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র আটকে থাকা সব নাবিক-ক্রু নিরাপদে আছেন। তারা অলভিয়া এলাকায় এক প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর তত্ত্বাবধানে আছেন। সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে তাদের সেখান থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ পোল্যান্ড কিংবা মালডরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে বিমানে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা হবে বলে জানা গেছে।
‘আমরা আতঙ্কিত, বাঁচতে চাই’, ইউক্রেনে আটকে পড়া জাহাজ থেকে রবিউল
শুক্রবার (৪ মার্চ) সকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) একাধিক কর্মকর্তা।
বিএসসি'র মহাব্যবস্থাপক (শিপ পার্সোনাল) ক্যাপ্টেন আমীর মো. আবু সুফিয়ান বলেন, জাহাজের ২৮ নাবিক-ক্রু সবাই সুস্থ আছেন। তারা নিরাপদে আছেন। যুদ্ধের পরিস্থিতি দেখে বর্তমানে থাকা জায়গা থেকে তাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। সেখান থেকে পোল্যান্ড অথবা মালডরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে বিমানে দেশে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বর্তমান স্থান থেকে বের হতে অন্তত দুই-একদিন সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।
ইউক্রেনে জাহাজে থাকা ২৮ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে
তিনি আরও বলেন, প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান আরিফের মৃতদেহ যেকোনোভাবে, যত কষ্টই হোক যাতে দেশে নিয়ে আসা যায়, সেই চেষ্টা চালাতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছি।
তিনি আরও জানান, ২৮ নাবিক-ক্রুর খোঁজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অ্যাম্বেসি এবং লোকাল এজেন্ট রাখছেন। আমরাও তদারকি করছি।
ইউক্রেনে আটকে পড়া জাহাজ থেকে বাংলাদেশিদের বাঁচার আকুতি
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাবিক ও ক্রুদের জাহাজ থেকে টাগবোটের সাহায্যে তীরে আনার পর অলভিয়া এলাকার নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। তবে কোথায় রাখা হয়েছে তা নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ করছে না লোকাল এজেন্ট, এমনটাই জানান আবু সুফিয়ান।
জাহাজে চাকরির প্রথম যাত্রায় ইউক্রেনে গিয়ে বিপদে রাকিব
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী বলেন, জাহাজে আটকে থাকা সবাই সুস্থ আছেন, নিরাপদে আছেন। বৃহস্পতিবার তাদের জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি থেকে টাগবোটের সাহায্যে উপকূলে আনা হয়েছে। এখন তারা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।
চট্টগ্রাম বিএসসি ভবনে উদ্বিগ্ন স্বজনদের ভিড়
তিনি বলেন, এখন তারা যে স্থানে অবস্থান করছে সেখান থেকে পোল্যান্ড ৮০০ কিলোমিটার এবং মালডরিয়া ২০০ কিলোমিটার দূরে। তাও যেতে হবে সড়ক পথে। যুদ্ধের কারণে কোন দেশে গেলে কম বাধায় যাওয়া যাবে আমরা সেটা ভাবছি।
এদিকে বিএসসি'র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২৮ নাবিককে জাহাজ থেকে উপকূলে আনা এবং আশ্রয় দেওয়া সবই করেছেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী। তিনি নিজ থেকে নাবিক-ক্রুদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন দফতর যোগাযোগ করছে।
অলভিয়া বন্দরে নোঙর করা বিএসসির জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধিতে বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিট ও ইউক্রেন সময় ৫টা ২৫ মিনিটে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজটির থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফ নিহত হন। বেঁচে থাকা বাকি ২৮ জন পরবর্তী হামলার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে যান। ভিডিও বার্তায় তারা নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন।
আরিফের লাশ ফেরত আনার দাবি স্বজনদের
উদ্ধার হওয়া নাবিক-ক্রুদের মধ্যে রয়েছেন, সেলিম মিয়া, রমা কৃষ্ণ বিশ্বাস, মো. রোকনুজ্জামান রাজিব, ফারিয়াতুল জান্নাত তুলি, ফয়সাল আহমেদ সেতু, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, সৈয়দ আসিফুল ইসলাম, রবিউল আউয়াল, সালমান সরওয়ার সামি, ফারজানা ইসলাম মৌ, মো. শেখ সাদি, মো. মাসুদুর রহমান, মো. জামাল হোসাইন, মোহাম্মদ হানিফ, মো. আমিনুর ইসলাম, মো. মহিন উদ্দিন, হোসাইন মোহাম্মদ রাকিব, সাজ্জাদ ইবনে আলম, নাজমুল উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম, সরওয়ার হোসাইন, মো. মাসুম বিল্লাহ, মোহাম্মদ হোসাইন, মো. শফিকুর রহমান, মো. আতিকুর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।
হামলায় নিহত হাদিসুর রহমান আরিফের জন্ম ১৯৯৩ সালের ১৮ মে। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে।
বিএসসি কার্যালয় সূত্র জানায়, জাহাজটি ইউক্রেনের বন্দর থেকে পণ্য বোঝাই করে ইতালির বন্দরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় ওই বন্দর থেকে পণ্য লোডিং কাজ বাতিল করা হয়। এ কারণে জাহাজটি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে নোঙর করে রাখা হয়। তুরস্কের এরেগলি বন্দর থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি খালি জাহাজটি অলভিয়া বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ২২ ফেব্রুয়ারি এমভি বাংলার সমৃদ্ধি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছে।