কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। আগুন দেওয়ার আট দিন পর স্ত্রী সাদিয়া আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর ৫টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান তিনি।
গত ২৩ এপ্রিল (শনিবার) সকাল ৮টায় উপজেলার পৌর এলাকার বানিয়াপাড়ায় ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। সাদিয়া উপজেলার পদ্মকোট গ্রামের অপুল সরকারের মেয়ে। তার স্বামী আসাদ সরকার স্থানীয় গুনাইঘর গ্রামের নুরু সরকারের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর সাদিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আসাদের। বিয়ের পর ভালোই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে চাপ দিতে থাকেন আসাদ। বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে না দিলে আগুনে পুড়িয়ে মারবে বলে হুমকিও দেন। এরপর থেকে যৌতুকের টাকার জন্য বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালাতে থাকেন আসাদ।
চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর শিশুটি মারা যায়। এরপর থেকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দিতে আবারও চাপ প্রয়োগ করেন স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। এদিকে, সাদিয়ার বাবা অপুল সরকার প্রবাস থেকে বাড়ি ফিরে বর্তমানে বেকার জীবনযাপন করছেন। বেকার বাবার কাছে এত টাকা চাইতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরপর থেকে তার ওপর বিভিন্ন সময় নির্যাতন করেন স্বামী আসাদ।
গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে সাদিয়ার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর আগুনে দগ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
সাদিয়ার চাচা আলমগীর হোসেন আলম দাবি করেন, ‘আমার ভাতিজিকে সে (আসাদ) মেরেছে। আমরা তার বিচার চাই। ভাতিজি সব বলতো আমাদের। আমরা বুঝিয়ে দিতাম। এবার ভাতিজিকে আর বুঝানোর সুযোগ পাইনি।’
দেবিদ্বার থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, সাদিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। বিস্তারিত খবর নেবো। এ ঘটনায় বুধবার রাতে কয়েকজনের নামে একটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’